বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করল বিসিবি

জরুরি সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিপিএলে দুর্নীতির আশঙ্কায় পাঁচ জনের নাম প্রকাশ করে তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ওই বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, শিগগিরই ফিক্সিং‑এ অভিযুক্তদের নাম জানানো হবে এবং তা দ্রুত কার্যকর হলো।

বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী কোডের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে বেটিং/জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, দুর্নীতির প্রস্তাব, তদন্তে সহযোগিতা না করা, ডিমান্ড নোটিশ মানা থেকে বিরত থাকা এবং প্রাসঙ্গিক গোপন যোগাযোগ মুছে ফেলা বা লুকোনোর মতো বিষয়। এসব অভিযোগ ২০২৬ সালের বিপিএল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন:

– চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান

– নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ

– ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার

– টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক

– ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান

নির্দিষ্ট অভিযোগের সারমর্ম:

– লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে ড্যাকো পরিচালিত তদন্তে যৌক্তিক কারণ ছাড়া সহযোগিতা না করা, ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থ হওয়া এবং তদন্তে বাধা বা বিলম্ব ঘটানো; যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলার অভিযোগও রয়েছে (ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭)।

– তাওহিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ—ড্যাকো তদন্তে সহযোগিতা না করা, ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য লোপাট বা ধ্বংস করা (ধারা ২.৪.৬ ও ২.৪.৭)।

– অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে ম্যাচের ফল কিংবা পরিচালনা নিয়ে বেটিং‑এ অংশ নেওয়া বা সেটি গ্রহণ করা (ধারা ২.২.১)।

– রেজওয়ান কবির সিদ্দিককেও ম্যাচ সংক্রান্ত বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে (ধারা ২.২.১)।

উপরের চারজনের পাশাপাশি বিসিবি সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী একটি এক্সক্লুশন অর্ডার জারি করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, সামিনুরকে নিয়েও জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি‑বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর সামিনুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

বিসিবি জানিয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগপত্র পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করার সুযোগ থাকবে। আপাতত বোর্ড এই বিষয়ে আরো কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে।

বিসিবি–বিসিবিআইইউর এই পদক্ষেপ খেলাভূমির সততা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে; একই সঙ্গে এতে বিপিএলের ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নও উঠতে পারে। তদন্ত ও শাস্তি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই এখনো নির্ধারণে মূল বিবেচ্য বিষয়।