দেশে ফেরাতে সেভাবে কোনো উদ্যোগ হয়নি: সাকিব

সাকিব আল হাসান বলেছেন, দেশে ফিরানোর ব্যাপারে জোরালো কোনো উদ্যোগ না থাকায় লম্বা সময় অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তা চলেছে, তবে তিনি আশাবাদী যে এ বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশার কথা জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দেশীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় সাকিবের দেশে ফেরা জটিল হয়ে পড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার কারণেই তিনি তৎকালীন সময়ে ঝুঁকি নেননি এবং পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা হলেও তখন পর্যন্ত ঠিক করে ফিরবেন কখন, তা তিনি জানাননি।

দ্য হিন্দুর সঙ্গে সাম্প্রতিক একান্ত আলাপে সাকিব বলেন, ‘‘ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা এখনো পুরোপুরি নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আমি মনে করি এ বছরের শেষদিকে পরিস্থিতি সহজ হতে পারে। আমি শুধুই দোয়া করছি। একটি ব্যাপার নিশ্চিত: যেকোনোভাবে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে — প্রশ্ন শুধু কত দ্রুতে সেটা হবে। আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ নাগাদ ফেরত যেতে পারব।’’

সাকিব নিজেই বলেছেন যে পরিস্থিতি একে একে বদলে যেতে পারে এবং তাই দিকটা এখন জটিল হলেও আশা বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে, আগামীকাল কী হবে তা বলা কঠিন। এজন্যই আমি আশাবাদী। পরিবার নিয়ে আছি, যখন সুযোগ পাচ্ছি তখন ক্রিকেট খেলছি। কিন্তু দেশে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার একচ্ছত্র সিদ্ধান্তে নেই — আমি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি।’’

অন্য এক সাক্ষাৎকারে (স্পোর্টসস্টার) সাকিব উল্লেখ করেছেন, আগে যে বোর্ড তাকে ফেরানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, বলা আর বাস্তবায়নের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। ‘‘আমি শুনছি সবাই আমাকে ফেরাতে চায়, কিন্তু বাস্তবে কাউকেও তেমন উদ্যোগ নিতেও দেখিনি,’’ তিনি যোগ করেছেন।

ক্রিকেটে বিদায়ের প্রসঙ্গে সাকিব অব্যাহতভাবে বলেছেন যে তিনি কেবল একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলে চলে যেতে চান না। এখনও নিজেকে ফিট মনে করেন এবং দলের জন্য অবদান রাখতে চান—‘‘যতদিন অবদান রাখতে পারব, খেলতে চাই; যখন মনে হবে আমি বোঝা হয়ে যাচ্ছি, তখন আর খেলব না।’’

তিনি জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে কানাডায় এক সমর্থকের কাছ থেকে ‘‘দেশের জন্য কী করেছেন?’’ এমন প্রশ্ন শুনে আঘাত পেয়েছিলেন। প্রায় দুই দশক দেশের হয়ে খেলবার পর এমন প্রশ্নে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন এবং পরে ধারণা করেন এগুলো কিছুটা পরিকল্পিতই ছিল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাকিব বলেছেন যে ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছে আছে, পাশাপাশি তিনি কোচিং বা ম্যাচ রেফারির মতো ভূমিকাতেও নিজেকে দেখতে চান। তিনি বলছেন, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।