বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গত বুধবার বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট হবে না। এই আশ্বাসের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম-সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, যদিও গ্যাস ও তেল সরবরাহের কিছু অসুবিধা দেখা দিয়েছে, তবে এই সমস্যা দ্রুতই নিরসন করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এবারও আমরা নিশ্চিতভাবে জানাচ্ছি, আগামী দুই মাসে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং কোন সংকট হয়নি।
বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত। তিনি বলেন, ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েল ক্ষতি বা ঘাটতি ঘটছে না। বাংলাদেশে এখনো যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানা নিশ্চিন্তে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করতে পারবেন।
তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি মাসে জ্বালানি মূল্যের সমন্বয় করছে, যা পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ক্রুড অয়েল আমদানি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল, তবে এখন সৌদি আরব থেকে ভিন্ন রুটে অয়েল আসছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানের বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৫০টি মামলা দায়ের, এক কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩ لاکھ ৬৬ হাজার লিটার ডিজেল, ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার অকটেন, এবং ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার পেট্রোল। সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে আরও ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল উদ্ধার করা হয়েছে। মোট ধরে, উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ লিটার অবৈধ জ্বালানি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জে ন্ত্রে জ্বালানি মজুতের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। মধ্যে রয়েছে, ডিজেল ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন। এসব তথ্য জনসম্মুখে এনে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দৃঢ়তা প্রমাণ করা হয়েছে।
