জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল-মত নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়ে এই সংগ্রামে অংশ নিচ্ছি। এটি কোনো দলের স্বার্থের জন্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের স্বার্থে মূল সংকট সমাধানের জন্য। তিনি বলেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে রক্ষা করতে হবে এবং শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেটাই আমাদের সংগ্রামের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য আমরা সবাই একযোগে ঐক্যবদ্ধ থাকব।
রোববার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবার, যোদ্ধারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হয়তো আমরা অন্তর্বতী সরকারের সময় এই সংগঠনের পাশে পুরোপুরি দাঁড়াতে পারিনি, তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই শহীদদের পক্ষে নানা বড় বড় কথা বললেও, তারা কি সত্যিই তার জন্য কিছু করে দেখাচ্ছে কিনা, সেটি দেখতে হবে। তিনি আরো যোগ করেন, অন্তর্বতী সরকারের সময় গঠন হওয়া জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন এখন কিছুটা কাজ করছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের উদ্যোগে অনীহা দেখা গেছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, উপস্থিত সবাই হয়তো সব কথা বলতে পারেননি, তবে প্রত্যেকের মধ্যে একই স্পিরিট এবং আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। সবাই পুনরায় ঐক্যবদ্ধ এবং রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত, ইনশাআল্লাহ। আপনি যারা শুনছেন, তাদেরও প্রস্তুত থাকতে বলি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘রাজপথের এই আন্দোলনে আপনারা সন্তান হারিয়েছেন, কেউ কেউ পা বা হাত হারিয়েছেন। আজ এই মঞ্চে বসে থাকা আমরা সবাইই আপনাদের সাথে থাকব, সবার সামনের সারিতে থাকব। হ্যাঁ, যেখানে গুলি চলবে, সেটি আমাদের বুকেই লাগবে। কাজের জন্য আমাদের সবাইকে সংগঠিত থাকতে হবে এবং দোয়া করতে হবে। বিশ্বাস করে বলছি, ইনশাআল্লাহ, একদিন নতুন বাংলাদেশ ও সংস্কার প্রতিষ্ঠিত হবেই। শুধু বিএনপি বা অন্য শক্তি নয়, কোনও পরাশক্তি বা বিদেশি শক্তি আমাদের রুখতে পারবে না; আমরা অবশ্যই বিজয় ছিনিয়ে নেব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান।
