স্বৈরাচারাজ্ঞ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে একসময় শূন্য হাতে সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় এসে পবিত্র কুমার সরকার নামে একজন ব্যবসায়ী সাফল্য অর্জন করেন। তার পিতা মৃত তারাপদ সরকার। শুরুতে নানা অভিযোগের কারণে বন্ধ হয়ে যায় তার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম, যেখানে তিনি জাল সার্টিফিকেট বিক্রি করতেন। এরপর তিনি একটি ট্রাস্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কিন্ডারগার্টেনের মালিক হন। তদন্তে দেখা গেছে, বটিয়াঘাটা উপজেলার রাজবাধ গ্রামে তার একটি বিশাল বাড়ি রয়েছে। এছাড়া হোগলাডাঙ্গা মোড়ে অবস্থিত তার মালিকানাধীন উদয়ন বুটিক স্কুল ও কলেজের ক্যাম্পাসও পরিচিত হয়ে উঠেছে।বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পবিত্র এক সময় একটি মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেছিলেন। তবে সন্তানের দাবি ওঠার পর, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন দলের দ্বারা হুমকি পান তিনি। এর ফলে সে মহিলাকে খুলনা ছাড়তে বাধ্য করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি অফিস ভাঙচুর এবং জনসভায় হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কাজ করেন। ৫ আগস্টের পর ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর বিক্ষোভ পরিচালনার চেষ্টা করলেও, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি পোস্ট মুছে ফেলেন, তবে স্ক্রিনশটগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলীয় কোনও পদে থাকেন না বলে তিনি গোপনে খুলনা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে কাজ করেন। সর্বশেষ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী প্যানেলের পক্ষে কাজের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা আদালতপাড়ায় তার অবাধ আসা-যাওয়া ছিল, জমি দখলে সহায়তা ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। তার বাড়ি সাতক্ষীরা থাকায় সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতে যাতায়াত করতেন। ৫ আগস্টের পর, এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের নাম ভুয়া পরিচয়ে তার চালানো বেনামে ঠিকাদারি কাজের খবর প্রকাশিত হয়। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কাজ দেখাশোনা করতেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে গোয়েন্দারা তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিন আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
