বাংলাদেশে ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকার বেশি

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে দুই লাখ কোটি টাকা। বিশেষ করে রপ্তানির তুলনায় আমদানি এতটাই বেশি হয়েছে যে, এর ফলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে এসেছে। দেশের আমদানি বেশি হওয়ার জন্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, যা গত কিছু সময়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি, আমদানি আরও বাড়ছে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা এবং খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অধিক চাহিদার কারণে। অন্যদিকে, একই সময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে আসায় বাণিজ্য ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম আট মাসে দেশের ব্যবসায়ীরা চার হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার) পণ্য আমদানি করেছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি বেশি। তবে, এই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। অর্থাৎ, আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে বৈষম্যই মূল কারণ that the প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে একই সময়ে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। তারা মনে করছেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দেশের আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। না হলে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের পণ্য আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই পার্থক্যই বোঝায় কেন বাণিজ্য ঘাটতিতে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে দেশের করেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স সামান্য ঋণাত্মক থাকলেও, ধারাবাহিক বড় ঘাটতি হলে এটি অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। এর পাশাপাশি, সামগ্রিক লেনদেন (অর্থাৎ ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ের সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার, যা গত বছরে একই সময় ছিল ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রথম আট মাসে তারা ২২০৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।
অপর দিকে, দেশি ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এফডিআই দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরে কমে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে, শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) গত কয়েক মাসে নেতিবাচক অবস্থায় গিয়ে পড়েছে। প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে, যা আগের অর্থবছরেও একই ধারা অব্যাহত ছিল।