বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আলোচনায় নতুন দিকনির্দেশনায় ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে জানা গেছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ডিপিএল শুরু হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে ১৩ এপ্রিল, যেখানে চূড়ান্ত অনুমোদন সম্ভব। অচলাবস্থার মাঝখানে, যেখানে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের কারণে মে মাসে খেলতে চায় ক্লাবগণ, সেখানে বিসিবি ২২ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে লিগ শুরুর পরিকল্পনা করেছে। তবে ক্লাবগুলো চাইছে, মে মাসের 5 তারিখের আগে ডিপিএল শুরু করা।
গত কয়েক মাসে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের অধীন সব ধরণের ক্রিকেট বর্জন করে আন্দোলনের মুখে ছিল ঢাকার ক্লাব সংগঠকরা। বোর্ডের অবস্থা অস্থির থাকায় মাঠে গড়ায়নি সূচনাশীন এর ব্যাপারটি। পূর্বে, নির্বাচনের সময় অবৈধ অনিয়ম ও দুর্বলতার কারণে এনএসসি তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়ে বোর্ড ভেঙে দেয়। এখন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি এই দায়িত্ব নিয়েছে। কমিটির প্রথম দিনই, বিসিবি কর্তৃপক্ষ ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনা চালিয়ে যায়।
উপস্থিত ছিলেন আবাহনী ও মোহামেডানের প্রতিনিধিরা, তবে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এরপরেও, বেশ কয়েকটি ক্লাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সফল হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ডিপিএল ২২ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শুরু হবে, তবে ক্লাব পর্যায়ে এর পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন তারা, যেখানে তারা চাচ্ছে টুর্নামেন্টটি 5 মে থেকে শুরু হোক।
নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর চলাকালীন, এই মাসের মধ্যে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড। সিরিজ শেষ হবে 2 মে, ফলে লিগের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসছে। জানা গেছে, ১৩ এপ্রিল এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবারের ডিপিএল দুই লেগে নয়, বরং সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সময়ের অপচয় রোধে, বিসিবি সুপার লিগ ছেড়ে দিয়েছে। প্রতিটি ক্লাব একটি করে ম্যাচ খেলবে, মোট ১১ রাউন্ড। সেই শেষে, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান থাকা দলটি চ্যাম্পিয়ন হবে।
হান্নান সরকার বলেন, ‘এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত, যে আমরা একমত হয়েছি। সাধারণত ডিপিএলের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের জন্য সুপার লিগ হয়, কিন্তু এবার তা পরিবর্তন করে সিঙ্গেল লিগে নিয়ে আসা হয়েছে, যাতে মৌসুমের প্রবাহ ঠিক থাকে।’
এছাড়া, এই মৌসুমে ভেন্যুর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরগুলোতে ঢাকা স্টেডিয়াম ও বিকেএসপিতে খেলা হয়েছে। এই বছর, ছয়টি ভেন্যুতে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে নতুন ভেন্যু হিসেবে পিকেএসপি, বসুন্ধরা, ক্রিকেটার্স একাডেমি ও সিলিকন ভ্যালি যুক্ত হতে পারে। তবে, কোন ভেন্যুতে খেলা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ধানমন্ডি ক্লাবের প্রতিনিধি আর মল্লিক রনি বললেন, ‘আমরা চাই, সবাই একসাথে ছয়টি মাঠে খেলো, যাতে একসাথে ম্যাচ হয় এবং রিজার্ভ ডে থাকে। ফলে, ম্যাচের ব্যস্ততার পরেও কোয়ালিটি ম্যাচ দেখা যাবে।’
বৃষ্টির মৌসুমে রিজার্ভ ডে রাখার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। গরমের কারণে মাঠে আইসিইউ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সংস্থান রাখা হবে। এছাড়া, বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ এ বছর অনিশ্চিত, কারণ ডলার সংকট ও ক্লাবের চাওয়া অনুযায়ী, গত মৌসুমে দেখা যায়নি বিদেশি ক্রিকেটারদের। এই বিষয়েও আপাতত কিছু সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিসিবি।
