বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা পরিস্কার করেছে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের পরিচালকরা বলেন, ক্রিকেটারও বোর্ডও বিশ্বকাপে অংশ নিতে চেয়েছিল; কিন্তু তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তই তাদের হাত-পা বেঁধে দেয়।
সবকিছুর সূত্রপাত হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকে আর) থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে হঠাৎ রিলিজ করে ফেলার ঘটনা থেকে। আইপিএল-২০২৬-এর জন্য কেনা মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই নিরাপত্তার অজুহাতে ওই নির্বাচনকালীন সরকার ভারতের উদ্দেশ্যে দলের পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন এবং শুরুতে বলেছিলেন ক্রিকেটাররাই ভারতে যেতে চাননি। কিন্তু বিসিবি এখন সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আমরা ক্লিয়ার সিগনাল পেয়েছিলাম। আলাপচারিতাও হয়েছিল।” তার কথায় বোর্ড এবং ক্রিকেটাররা মূলত যাবার পক্ষে ছিলেন।
নাজমুল আবেদিন ফাহিম পরিস্থিতির বিস্তারিত বলেছেন। তিনি জানান, মুস্তাফিজ ইস্যুর পর বোর্ড প্রথমে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখালো এবং বোঝাপড়া, দর-কষাকষি বা ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশ্বাসের ওপর চিন্তা করছিল। “কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত চলে আসায় আর কোনো পথ খোলা ছিল না,” তিনি বলেন।
ফাহিম আরও জানান, ‘বিপিএল ফাইনাল ২৩ তারিখে ছিল। চট্টগ্রামে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে সূচিতে পরিবর্তন হয়ে সিলেটে বেশি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, তারপর দ্রুত ঢাকা ফিরে আসতে হয়েছে। আমরা চাইলে দুই দিন সময় নিয়ে চট্টগ্রামে খেলা শেষ করে যেতে পারতাম এবং ২৮ তারিখে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে রওয়া দিতে পারতাম। আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সরকার যখন নিরাপদ নয় বলল, তখন আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না।’
অন্যদিকে পরিচালক মোখসেদুল কামাল বাবু সরাসরি বলেছেন, “বোর্ড অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে ছিল।” ঐ সম্মেলনে উপস্থিত সব পরিচালকই একেবারেই দলের ভারত যাত্রার বিরোধী ছিলেন না বলে জোর দিয়ে বলা হয়।
বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; বরং সরকারের নির্দেশনায় বোর্ডকে তা মেনে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে রাখার অনুরোধ অগ্রাহ্য করে এবং সবশেষে বাংলাদেশকে প্রতিস্থাপিত করে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংক্ষিপ্তভাবে, বিসিবি বলছে—বোর্ড ও খেলোয়াড়রা খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তখনকার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত পুরোপ্রকারে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। আসিফ নজরুলের বক্তব্য যে ক্রিকেটাররাই যেতে চায়নি—বিসিবি তা সরাসরি বরখাস্ত করেছে।
