মুক্তিপণ হিসেবে দেড় লাখ টাকা দিয়ে জলদস্যুর হাত থেকে ৬ জেলে ফিরে এলেন বাড়ি

সুন্দরবনে জলদস্যুদের অপহরণের শিকার শয়তান আট জেলে তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের দাবি করা হয়। এর মধ্যে ছয় জন জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে শনিবার ভোরে বাড়িতে ফিরে এসেছে। তাদের মধ্যে আনারুল, ইমরান, সুশান্ত এবং একদিন আগে শুক্রবার সকালে সাদ্দাম, ইউনুস আলী এবং সাইফুল ইসলাম বাড়ি ফিরেছেন। অপহরণকারীরা মুক্তিপণের জন্য প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দাবি করেছিল।

জেলেদের পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন, সাদ্দামের ওপর ৪০ হাজার টাকা, আনারুল, সুশান্ত ও ইমরান যথাক্রমে ৩৫ হাজার করে টাকা এবং ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলামের জন্য প্রায় ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও এনামুল ও হযরতসহ অন্য চার জেলের কোনো খোঁজ মেলেনি।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনে চলাচলকারী জেলেরা জানিয়েছেন, ১ এপ্রিল বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তার এই নির্দেশের পর র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশের সক্রিয় তৎপরতার কারণে জলদস্যুরা অপহৃত আরও জেলেদের কাছ থেকে নিচের দিকে সরে গেছে। তবে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার মোঃ ফজলুল হক বলেছেন, অপহরণ বা ফিরে আসার বিষয়ে ওইসব পরিবারের কাছ থেকে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে, গত ৩০ মার্চ সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ ও মামুনডো নদী থেকে ‘ডন’ ও ‘আলিফ ওরফে আলিম’ বাহিনীর পরিচয়ে আরও চার জেলেকে অপহরণ করা হয়। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, সচরাচর জেলেরা এই ধরনের ঘটনার পরে নিজেদের মধ্যেই সমাধানের চেষ্টা করে। তবে জীবনের ঝুঁকি থাকায় তারা পুলিশের কাছে তথ্য দিতে চান না। এরপরও, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।

অন্যদিকে বনবিভাগের এক কর্মকর্তার কথানুযায়ী, সুন্দরবনের নোটাবেঁকী টহল ফাঁড়ির সংলগ্ন অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে সাতজন মৌয়াল মধু সংগ্রহ করছিলেন। পরে, মধু কাটার অভিযোগে স্মার্ট টহল টিমের সদস্যরা তাদেরকে আটক করে। তবে, নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকায় আটকদের নাম বা পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।