খুলনায় নতুন নির্মিত আধুনিক কর ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল ভবনের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আহসান হাবিব। খুলনার কর কমিশনার শ্রাবণী চাকমা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আয়কর ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে জনগণের করই বড় ভূমিকা রাখে। সেই কারণে কর ব্যবস্থাকে কার্যকর, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করা জরুরি; পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ করাও প্রয়োজন।
তিনি জানালেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট করানো নিয়ে ভয় কাজ করে—অনেকে মনে করেন করদাতার পরিচয় দিলে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হবেন। অতিউৎসাহী বা অসৎ কর্মকর্তাদের আচরণ নতুন করদাতাকে লজ্জিত ও বিচলিত করে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ সংকেত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বকুল আরও বলেন, বিএনপি সরকারের প্রধান এজেন্ডা করের হার বাড়ানো নয়, বরং করদাতার সংখ্যা বাড়ানো। তিনি জানান, বর্তমান সরকার মাত্র ২২ দিনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা এবং খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রম শুরু করে তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণও শুরু হবে বলে তিনি জানান।
তিনি স্পষ্ট করেন যে এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তহবিল রাজস্ব খাত থেকে আসবে; অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করার জন্য নতুন টাকা ছাপানোর প্রয়োজন হবে না, তাই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নেই।
কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে বড় ব্যবসায়ীরা কর ফাঁকি দিয়ে বাঁচছে, অথচ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর অনিয়ম ও অবিচার হচ্ছে—এই বৈষম্য জটিলতা দূর করতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের সরকারের সময় ট্যাক্স কর্মকর্তারা জনগণের বন্ধু হবে; জনগণের ভয়ে বা আতঙ্কের জায়গা হবে না। করদাতাদের বোঝাতে হবে ট্যাক্স থেকে কীভাবে বাজেট ব্যয় করা হচ্ছে, সহজ ভাষায় সচেতনতা বাড়াতে ক্যাম্পেইন করতে হবে এবং কর দানে উৎসাহ দিতে করদাতাদের পুরস্কৃত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
খুলনার আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বকুল বলেন, শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই শহরের শিল্প এখন ধ্বংসের পথে, বিশেষ করে মৎস্য শিল্প হুমকির মুখে। তিনি কুটির শিল্প থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পকারখানা পুনরায় গড়ে তোলার মাধ্যমে অঞ্চলটির অর্থনীতি সচল করার এবং একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও জনবান্ধব কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সমাপ্তিতে তিনি সবাইকে আহ্বান জানান—কর সম্পর্কে প্রচলিত ভয়ভীতি ভুলে দেশের উন্নয়নে সরকারের সাথে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য।
