চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগে দ্বিতীয় দিনও জ্বালানি কার্ড (ফুয়েল কার্ড) বিতরণ চলছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে জেলার চারটি উপজেলা পরিষদে এসব কার্ড বিতরণ করা হয়। একারণে দীর্ঘ লাইনের ভিড়ে আলমডাঙ্গায় একজন এনজিওকর্মীর মারা যাওয়ার খবর মিলেছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বখতিয়ার রহমান নামে ওই ব্যক্তির স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়। তিনি ভেদামারীর রফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে। নিহত বখতিয়ার স্থানীয় একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।
বখতিয়ারের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন জানান, সকালে তিনি উপজেলা চত্বরে জ্বালানি কার্ড সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ান। ভিড়ের মাঝে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়; সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানাজার আগে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আকতার জানান, নিহত ব্যক্তি আগ থেকেই অসুস্থ ছিলেন। উপজেলা চত্বরে মানুষের ভিড় ছিল বেশ ঘন—তীব্র গরমে অসুস্থতা আরও তীব্র হয়ে ওই ব্যক্তির স্ট্রোক ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন পূর্বে জানিয়েছিল, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য জ্বালানি কার্ড বিতরণ শুরু হবে। কার্ড নিতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
জানা হয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র জ্বালানি কার্ডধারী যানবাহনগুলোতেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। তেলের মাত্রা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি হবে। তবে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল সরবরাহে শিথিলতা রাখা হয়েছে—কৃষকদের জন্য আগের মতো ২৪ ঘণ্টা ডিজেল বিক্রি চলবে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিক উজ জামান বলেন, ফুয়েল কার্ড কার্যক্রম চালু হলে পাম্পসমূহে বিশৃঙ্খলা রোধ করা সম্ভব হবে এবং কালোবাজারির মতো অনিয়মও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে জেলা প্রশাসন গভীরভাবে শোকাহত।
জিআর: সময় টিভি ও আজকের পত্রিকা
