আইপিএলে একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি

আইপিএল শুরুর আগেই franchises-গুলোকে কাঁধে হাত দিতে হচ্ছে—একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আকাশপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় খেলোয়াড়দের আনাচে–পাঁচে বিকল্প রুট বেছে নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে চোট ও ব্যক্তিগত কারণে একের পর এক বিদেশি তারকার অনুপস্থিতি দেখা দিচ্ছে। আগামী ২৮ মার্চ শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে এখন অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিই খেলোয়াড়ের ফিটনেস এবং ভ্রমণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। নিচে মূল কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক অবস্থার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো।

প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক কামিন্স এখনও পিঠের চোটে কষ্ট পাচ্ছেন। তাই অবিলম্বে হায়দরাবাদে উপস্থিত না থাকতে পারে—সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আইপিএলের শুরুতে অধিনায়কত্ব ইশান কিষাণকে দিয়েছেন। তবে পরবর্তী সপ্তাহে কামিন্স দলের সঙ্গে যোগদানের সম্ভাবনা আছে; সবকিছু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক নোটিশ এবং ফিটনেস রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে।

মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক কোনো আঘাতে ভুগছেন না, তবে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা ও বিশ্রামের প্রয়োজন বিবেচনায় তিনি ব্যবস্থাপনা অধিকারিদের কাছে ঝুঁকি তৈরি করছেন। অ্যাশেজে কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে স্টার্ককে অ্যাসিং দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে, এরপর থেকেই তিনি বিরতিতে আছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি ফিটনেস নিয়ে সবুজ সংকেত দেয় তবেই দিল্লি ক্যাপিটালসের আশাবাদ বাড়বে।

জশ হ্যাজলউড: গত আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হ্যাজলউড এবার শুরুর ম্যাচগুলো মিস করতে পারেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস সংক্রান্ত সমস্যা його অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্ম ও টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে দেয়নি। তিনি বর্তমানে পুনর্বাসনে রয়েছেন এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে পাস করলেই যোগ দেওয়ার অনুমতি পাবেন।

নাথান এলিস: সাদা বলের দলে গুরুত্বপূর্ণ হলেও হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এলিস পুরো আইপিএল থেকেই ছিটকে গেছেন। চেন্নাই সুপার কিংস তার ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু এখন তাদের বিকল্প বোলার খুঁজতে হচ্ছে।

স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে চেন্নাই থেকে ট্রেড হয়ে রাজস্থান রয়্যালসে নেওয়া হয়—তবে তিনি এখনই নতুন ক্লাবের জার্সি গায়ে তুলছেন না। গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে এখনকার পুরো মৌসুমে তিনি রয়েছেন না; তার অনুপস্থিতিতে রাজস্থানের দলীয় ভারসাম্যে প্রভাব পড়ার আশা করা হচ্ছে।

জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অভিষেকের প্রত্যাশা রাখা এ অস্ট্রেলিয়ান পেসার পায়ের চোটে পুরো আইপিএল থেকেই বাদ পড়েছেন। বিগ ব্যাশে ১৩ উইকেট নেওয়া এই বোলারটি নিলামে একমাত্র আনক্যাপড বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আলোচিত ছিলেন। এডওয়ার্ডস এবং কামিন্স দুজনেরই শুরুতে অনুপস্থিতি হায়দরাবাদের বোলিং বিভাগে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের প্রথম পর্ব মিস করবেন—হালনাগাদ সূত্র বলছে, সম্প্রতি বাবা হওয়ায় তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। তিনি টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টি‑টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

সমস্যার প্রভাব ও পরবর্তী 전망: ভ্রমণ রুটের পরিবর্তন, ফিটনেস যাচাই ও দ্রুত বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজার কাজ এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অগ্রাধিকার। কিছু খেলোয়াড় আইপিএলের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দিতে পারেন, আবার কেউ পুরো আসর থেকে অনুপস্থিত থেকেও দলকে বিপদে ফেলতে পারেন। আইপিএলের শুরুতে চূড়ান্ত স্কোয়াড ও খেলোয়াড় উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আগামী কয়েক দিনের ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর ঘোষণা অপেক্ষা করতে হবে।