জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন। কেউ কেউ বললেও যে ‘‘ভোটের কালি এখনও যায়নি’’, তবু তিনি পরিবার কার্ড প্রদান, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুজোয় পুরোহিত, সেবায়েত, বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সম্মানী দেওয়া শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় খাল খননের মাধ্যমে আরেকটি কর্মসূচিরও যাত্রা শুরু হয়েছে।
হুইপ আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের টিয়াবুনিয়া খাল খননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের যেসব খাল এখন দখলবিদ্ধ, সেগুলো যদি দখলমুক্ত করা হয় তাহলে ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিরসন হবে।
রকিবুল ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছেন—কারণ ‘‘কৃষক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ’। তিনি সংশ্লিষ্টদের অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদ করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বলেন, অতীতের ভুলগুলো ভুলে আমরা সামনে এগোতে চাই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখানে মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে; মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দখলবাজি—এসব সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে এখন থেকে কেউ পার পেয়ে যাবে না। ভবিষ্যতে দলমত নির্বিশেষে জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন—এটিই বিএনপির একমাত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে বলে হুইপ উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মোঃ আবুল বাশার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন ও ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার।
উল্লেখ্য, টিয়াবুনিয়া খালের ১.৭০ কিলোমিটার খননে ব্যয় হবে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং কাজটি আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
