বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এই সরকার সবার সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—সবাই এই দেশের নাগরিক। আপনারা সহযোগিতা করবেন, আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের গোর-ই শহীদ মাঠে ইফতারের পূর্বে বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সরকারের উদ্যোগ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিন পর স্মৃতিবিজড়িত নিজের শহরে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
নানিবাড়ি এলাকা দেখার সময় শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বারবার দিনাজপুরকে নিজের ‘নানিবাড়ি’ বলে সম্বোধন করেন। ঘাসিপাড়া ও বালুবাড়িতে কাটানো দিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই শহরের অলিগলিতে আমার অনেক স্মৃতি আছে; তাই মাটির প্রতি আমার আলাদা টান ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।”
তারেক রহমান জানান, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারের বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষত দেশে পানির সংকট মোকাবিলায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার কর্মসূচির কথা তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। আর্সেনিক দূরীকরণসহ পানি সংকট সমাধানে খাল ও নদী খনন করে প্রাকৃতিক পানির আধার তৈরি করা অপরিহার্য।”
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশের ২০ কোটি মানুষের অর্ধেকই নারী—তারা পিছিয়ে গেলে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিলে তারা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও সম্মাননা পাবে। এই প্রকল্পের পাইলট হিসেবে দিনাজপুর-৬সহ দেশের ১৫ এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রায় ৩৬ হাজার মানুষকে এর আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সহায়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের অনেক সময় মৌলিক চাহিদা মিটে না; তাদের জন্য যে সরকারি সম্মানীর প্রতিশ্রুতি আছে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। উত্তরবঙ্গের লিচু, আম, আলু ও টমেটোর মতো কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। ঈদের পর শিল্পমালিকদের সঙ্গে বসে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বক্তৃতার শেষভাগে তিনি দেশবাসীর কাছে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। গত দেড়-দু’বছরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হলেও সমস্যাগুলো একেবারেই অল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি পুনরায় সবাইকে সহযোগিতার জন্য বলেন, “এই সরকার সবার সরকার—আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। ইফতারের মঞ্চে ওঠার আগে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২০টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিতরণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলা বিএনপি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেএম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম, দিনাজপুর চেম্বার অ্যান্ড কর্মাসের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জমিয়তে ইসলামীর সভাপতি মতিউর রহমান কাশেমী ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।
