পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের খালের খনন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবেনা; সব খাল সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে উন্মুক্ত করা হবে।শনিবার দুপুরে মাদুরপাল্টা ব্রিজের সংলগ্ন এলাকায় উৎসবের মেজাজে খননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই খননের মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশকের অবরোধের অবসান হবে। এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষকরা সহজে কৃষিকাজ করতে পারবে এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, জনগণের সম্পদ লুটে-পাটের দিন শেষ। মোংলা ও রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য মুক্ত। যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে, তাদের যদি স্বেচ্ছায় খাল ছেড়ে না দেন, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের খাল খনন এই প্রকল্পের মূল চেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) মোংলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাল—মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখন্ড ওবেনীরখন্ড—সহ মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশের খনন উদ্বোধন হয়। এই খনন কাজের জন্য প্রায় ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে, খালের উপরের প্রস্থ ২৫ ফুট, নিচের প্রস্থ ৫ ফুট এবং গভীরতা ৮ ফুট নির্ধারিত। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ ৩ হাজার ৮৪৭ টাকা, যা ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজন ও সিএনআরএসের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।প্রধান অতিথি মোংলার ইউএনও শারমীন আক্তার সুমী জানান, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। স্থানীয় জনগণ ও বিএনপি নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।যখন মাটি কাটার কাজ শুরু হয়, তখনই একজন বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক আবেগে ভর করে বলেন, ‘৪০ বছর পরে এই খালে আবার পানির কল কল শব্দ শুনবো, এটা ভাবতেই চোখ moist হচ্ছে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে জলাবদ্ধতা ও লোনা পানি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা জেগেছে এই উপকূলীয় এলাকার মানুষজনের মধ্যে।বক্তারা বলেন, এটি শুধু মাটি খোদনের কাজ নয়, এটি মোংলার কৃষি ও পরিবেশকে পুনর্জীবিত করার এক প্রতিজ্ঞা। এই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংস্থা একত্রিত হয়ে কাজ করবে। প্রকল্পটি সিএনআরএস-এর ‘নবপল্লব’ কর্মসূচির অধীনে এবং ঠিকাদার হিসাবে কাজ করছে মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ। এই প্রকল্প মোংলার মানচিত্র বদলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন, মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল আর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন থাকবে না, সব হবে জনগণের সম্পত্তি। এই ঘোষণা শুনে উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালিতে মুখর হয় পুরো পরিবেশ। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ার করেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন আজ থেকে আবার শুরু হলো। কোনো ইজারা বা দখল থাকবেনা; সব খাল উন্মুক্ত করা হবে। যারা এখনো সাধারণ মানুষের পানির পথ বন্ধ করে অর্থ উপার্জন করছেন, তাদের যদি স্বেচ্ছায় খাল ছেড়ে না দেন, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
