খুলনা-৪: বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬কে সামনে রেখে খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, তিনি উপজেলার ভিত্তিতে মোট ৭৪টি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেন।

হেলাল তার বক্তব্যে বলেছিলেন, নদী ও প্রকৃতিবেষ্টিত এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আধুনিক খুলনা-৪ গড়ে তোলা তার প্রধান লক্ষ্য। তাই অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প ও কৃষিসহ সামাজিক নিরাপত্তাকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইশতেহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ভৈরব নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ, অসমাপ্ত নগরঘাট ও রেলিগেট সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা, নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং রূপসা উপজেলায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। রূপসা ফেরিঘাটকে টোলমুক্ত করা ও সেখানে আধুনিক পরিবহন স্ট্যান্ড নির্মাণও তার পরিকল্পনার অংশ।

স্বাস্থ্য খাতে তিনি দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর, রূপসায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল এবং তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শিক্ষার ক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি করণের প্রচেষ্টা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও লাইব্রেরি স্থাপন এবং বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ইপিজেড স্থাপন, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলার কথা বলেন। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ-সার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রচলন ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতিও প্রদান করা হয়।

অপরাধ ও অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ মোকাবিলায় তিনি মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা করেন। পাশাপাশি নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও জোর দেওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে হেলাল বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি খুলনা-৪ আসনকে একটি আদর্শ ও উন্নত জনপদে রূপান্তরিত করার কাজ করবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য খান রবিউল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, আবু সাঈদ, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া এবং শিহাবুল ইসলাম সিহাব।