জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে, আসামিদের আব্যাহতির (অব্যাহতি) আবেদনের চেয়ার খারিজ করে এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
পূর্বে ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় ও অভিযোগের বিষদ ব্যাখ্যা দেন এবং কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। প্রসিকিউশনের প্রতি দাবি ছিল—জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেয়া, উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে সহিংসতা বাধানোর অভিযোগ রয়েছে। শুনানি শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আবেদন করেন।
আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। তারা প্রসিকিউশনের অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানান। উভয়পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনে আদালত ২২ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশ দেন।
এই মামলায় আটজন আসামির মধ্যে সাতজনকে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে; পলাতক অপর আসামিদের তালিকায় রয়েছেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
আগে এই মামলার জন্য আসামিদের আত্মসমর্পণের দিন গত ৮ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল, কিন্তু তারা হাজির হননি। পরে ট্রাইব্যুনাল পলাতক বিবেচনায় তাদের পক্ষের জন্য স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন। এছাড়া পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়; আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়।
আদালতের এই আদেশের ফলে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো এবং আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সূচনা বক্তব্য ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ।
