আন্তর্জাতিক ওমরাহ হজ পালন করতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন টিকটক তারকা আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি পরিচিত প্রিন্স মামুন নামে। তবে দেশের মাটিতে তার জন্য অপেক্ষা করছে একটি দুঃসংবাদ। লায়লা আখতার ফরহাদ নামে এক নারী তার বাসায় ঢুকে মারধর ও হুমকির অভিযোগে মামলার আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর গেল বৃহস্পতিবার তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার, মামলার অভিযোগ গঠন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল। ওই অনিবার্য কারণবশত, মামুন ওমরাহ পালনের জন্য আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পক্ষে আইনজীবী আশিকুল ইসলাম সময়ের আবেদন জানান, কিন্তু বাদী লায়লা আখতার ফরহাদ আদালতে হাজির হয়ে মামলা পরিচালনা করেন এবং মামুনের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করেন।
বাদীর আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল) বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অন্য একটি ধর্ষণের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামুন তার বাসায় গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ও জিডি তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। যখন লায়লা অস্বীকৃতি জানান, তখন সে ফেসবুক লাইভে গিয়ে লায়লা ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন ও মারধর শুরু করেন। এমনকি ছুরি দিয়ে হত্যার প্রচেষ্টা চালান, যা মোকাবিলায় লায়লা আহত হন। এরপরই ক্যান্টনমেন্ট থানায় তিনি একটি মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান সৈকত গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তে অভিযুক্ত মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত সেই সময় তার জামিন বাতিল করে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এছাড়া, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৫ মার্চ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, লায়লার সঙ্গে প্রিন্স মামুনের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মামুন ক্যান্টনমেন্ট ডিওএইচএস-এর বাসায় গিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলে, আগের মামলা ও জিডি তুলে নাও। তবে লায়লা তা স্বীকার না করায় মামুন ফেসবুক লাইভে গিয়ে গালিগালাজ ও মারধর করেন, এমনকি ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টাও চালান। এই ঘটনায় ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলার অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে গত সেপ্টেম্বর মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয় এবং আদালত তার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
Leave a Reply