দেশের ফুটবল অঙ্গনের প্রিয় মুখ, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ও খুলনা জেলা ফুটবল দলের কোচ মোঃ দস্তগীর হোসেন নিরা আর আমাদের মাঝে নেই। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি খুলনা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আমরাতো আল্লাহর এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাবো)। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬২ বছর। নিরা ৬ নম্বর মিয়াপাড়া রোডের হোসেন ভিলার বাসিন্দা, মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর తెలుసার পরই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রোববার জোহর নামাজের পর মরহুমের নামাজে জানাজা মিয়াপাড়া পাইপের মোড়ে অবস্থিত কায়েমিয়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে টুটপাড়া সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে তিনি খুলনা মোহামেডান ক্লাবে ছিলেন যেখানে তিনি দুজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে ইনজুরির পর ফিজিওথেরাপি দিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ বুকের মধ্যে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, পরে তার অবস্থা আরো অবনতি হলে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ধারণা, তার মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকের কারণে।
নীরার শেষযাত্রায় অংশ নেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলী আসগার লবী, মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু ও বিভিন্ন ক্লাবের সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা।
তার এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনসহ দেশের ফুটবল মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিবেদিতপ্রাণ এই ফুটবল ব্যক্তিত্বের বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও তার প্রাক্তন সতীর্থরা। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দস্তগীর হোসেন নিরার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খুলনা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন, সোনালী অতীত ক্লাব, ইয়ং বয়েজ ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তবাংলা সংস্থা, কসমস একাদশ, লিটন স্মৃতি সংসদ, এসবিআলী ফুটবল একাডেমিসহ বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন।
খেলোয়াড়ী জীবনে খুলনা ইয়ং মুসলিম ক্লাবের হয়ে Football playground এ তার পদচারণা শুরু। তার ক্যারিয়ার ছিল অত্যন্ত সফল ও বর্ণময়। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব ঢাকা আবাহনী, খুলনা আবাহনী ও খুলনা মুসলিম ক্লাবের হয়ে দীর্ঘকাল রক্ষণভাগের দায়িত্ব পালন করেন। তার অসামান্য দক্ষতা ও নেতৃত্বে তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হওয়ার পর তিনি একজন ফুটবল সংগঠক ও প্রশিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ছিলেন একজন উচ্চতর ‘এ’ লাইসেন্সধারী ফুটবল কোচ। খুলনা জেলা দলের কোচের দায়িত্ব পাশাপাশি তিনি একটি ব্যক্তিগত ফুটবল একাডেমিও পরিচালনা করতেন। মৃত্যুকালে তিনি খুলনা সোনালী অতীত ক্লাবের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
Leave a Reply