ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ভয়াবহ এক পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়েছে দলের সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারীদের উপর। মুস্তাফিজের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সব পোস্ট কেকেআরের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে মোছার কারণে বাংলাদেশি সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র এক দিনের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার ফলোয়ার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি হারিয়ে ফেলেছে।
প্রথম দিকে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের জন্য বাংলাদেশে কেকেআর ছিল অন্যতম জনপ্রিয় দল। গত বছর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নিয়েও সেই আগ্রহের উৎস ছিল বেশ। তবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাঁকে বাদ দেওয়ার এবং সব সংশ্লিষ্ট পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুব দ্রুতই সেই ভালোবাসা ক্ষোভে রূপান্তরিত করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কেকেআরের অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮১ লাখের বেশি, কিন্তু আজকের মধ্যে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখে, অর্থাৎ প্রায় ১০ লাখ মানুষ কেকেআরের পেজ বিশ্বাসের হারিয়ে ফেলেছেন।
অর্থাৎ, এক দিনের মধ্যে ১০ লাখের বেশি অনুসারী এই ক্লাবটিকে আনফলো করেছেন। এই ঘটনার প্রভাব শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর প্রভাব পড়েছে দেশের ক্রিকেটের পরিস্থিতিতেও। মুস্তাফিজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জটিলতা এখন তারকারা অংশ নেওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনাও এসে ঠেকিয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত বিশ্বকাপের সময়ে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে হওয়ার কথা ছিল। তবে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতীয় দর্শকদের মুখোমুখি হতে চান না। আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে একটি চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের খেলাগুলো অন্যান্য দেশে আয়োজনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিসিবি।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদন মতে, বিসিবির এই আবেদন আইসিসির তরফ থেকেও দেখা जा Preis aandacht krijgt যা ইতিবাচক। তারা এই পরিস্থিতিকে নাকচ করেনি, বরং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আশা করা হচ্ছে।
এই বছর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষরা হলো ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে, বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বিগ্ন হয়ে আসন্ন আসরটি অন্য দেশে আয়োজনের জন্য চাপ দিচ্ছে।
Leave a Reply