হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকরা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কোনো দেশ বা সংস্থা টোল আরোপ করতে পারে না—এই তথ্য মঙ্গলবার রয়টার্সের মাধ্যমে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের আগে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নাবিকতা বিষয়টি মুখ্য হিসেবে উঠেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও একাধিক মার্কিন উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের মধ্যে ফোনালাপে এই বিষয়টি ওঠে। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ—বিশেষ করে হরমুজের মতো প্রণালী—দিয়ে চলাচল করার জন্য কারো কাছে টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া যায় না এবং এ ধরনের অবস্থান দেশগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে।

চীনের দূতাবাসও যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য সরাসরি অস্বীকার করেনি। তারা জানিয়েছেন, সব পক্ষ মিলিয়ে কাজ করলে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে—এটাই তাদের উদ্দেশ্য।

হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ববাণিজ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হয়। যুদ্ধ বা উত্তেজনার আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো, তাই প্রণালীতে বন্ধ বা ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বরাদ্দ ও বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ ঝটকা পড়ে। সংবাদটি বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান প্রণালিটি প্রায় বন্ধ করে দেয়—যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ে।

কূটনৈতিক পর্যায়ে যে সমঝোতার কথা বলা হয়েছে, তা যদি বাস্তবে কার্যকর হয় তাহলে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তা সাহায্য করতে পারে। আগামী ট্রাম্প-শি বৈঠকে এই বিষয়টি কীভাবে এগোয়, তা আন্তর্জাতিক বাজার ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।