পাকিস্তান ক্রিকেট ধুলোয় মিশে যাচ্ছে — বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের কাছে ধারাবাহিক হার

পাকিস্তান ক্রিকেটের বিরুদ্ধে একরাশ প্রশ্নচিহ্ন। ফেব্রুয়ারি-মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা গড়ে উঠলেও সেই মুহূর্তটাকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। আইসিসির ওই ইভেন্টের পরে বাংলাদেশকে নিয়ে চার ম্যাচ খেলায় তিনটিতেই হেরেছে পাকিস্তান — যার উপর সংযুক্ত হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদের তীব্র সমালোচনা।

মিরপুরের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ১০৪ রানে হারায় পাকিস্তান; আগে মার্চে ওয়ানডে সিরিজটাও হারিয়েছিল তারা। শেহজাদ এই ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও নাহিদ রানাদের পারফরম্যান্সকে প্রসংশা করে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে পুরো পাঁচ দিন আধিপত্য বিস্তার করে খেলল এবং শেষ পর্যন্ত জয় পেল। তোমরা কখনো জিম্বাবুয়ের কাছে হারো, কখনো বাংলাদেশের কাছে — ধুলোয় মিশে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট।’’

শেহজাদ আরো ধরে দিয়েছেন যে ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে হারানো ছিল কোনো ফ্লুক নয়। তার মতে এরপর থেকেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে এবং পাকিস্তান পিছিয়ে পড়েছে — বিশ্বকাপ-সহ নানা টুর্নামেন্টে দেশের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েকে হেরে সাফল্য এলেও পরে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া, আর কিছু পরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুপারওভারে পরাজয়সহ আরো ব্যর্থতা পাকিস্তানকে ঘিরে নেতিবাচক প্রশ্ন জাগিয়েছে, বলে মন্তব্য করেন শেহজাদ।

ব্যক্তিগত দিক থেকে মিরপুর ম্যাচে একাধিক নতুন মুখের উত্থান দেখা গেছে — অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন আজান আওয়াইস, আর আব্দুল্লাহ ফজল দুই ইনিংসেই ফিফটি করেছেন। পক্ষান্তরে দলীয় দায়িত্বে থাকা শান মাসুদ দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন মাত্র ৯ রান; সালমান আলী আঘা ও রিজওয়ান প্রথম ইনিংসে ফিফটি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছেন। সহ-অধিনায়ক সৌদ শাকিলও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেননি।

শেহজাদ এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ভাবার প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘আজান ও আব্দুল্লাহ ভালো খেলেছে। কিন্তু সিনিয়ররা—রিজওয়ান, শাকিল, মাসুদ—তারা কোথায়? বড় কথা বলাটা এক কথা, কিন্তু লজ্জাবোধ ও আত্মসম্মান থাকা দরকার। পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গেছো? এই হারকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না; তা থেকে শেখা জরুরি।’’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রেক্ষাপটেও মিরপুর জয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে ২০২৫-২৭ চক্রে পাকিস্তান শীর্ষে এগিয়ে থাকলেও মিরপুর জয়ের পর বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ উঠে ছয় নম্বরে চলে এসেছে; তাদের সফলতার হার এখন ৪৪.৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান দুই ধাপ নেমে সাত নম্বরে, সফলতার হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। সিরিজের দ্বিতীয় এবং নির্ধারক টেস্ট শুরু হবে ১৬ মে সিলেটে।

সংক্ষেপে, ফলাফল ও পারফরম্যান্স দেখে শেহজাদসহ অনেকে মনে করছেন পাকিস্তানকে দ্রুত বিশ্লেষণ করে পরিবর্তন প্রয়োজন — নইলে দেশের জাতীয় ক্রিকেটের নামকে ধুলোয় মিশিয়ে ফেলার ঝুঁকি কোথাও থাকবে না।