ক্রীড়া বেটিংয়ে জড়িতদের ১০ বছরের কারাদণ্ড চাইলেন তামিম

এক সময়ে ক্রীড়া বেটিংয়ে জড়িতদের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ কড়া শাস্তির প্রস্তাব করেছিলেন তামিম ইকবাল। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি চাইলে সেই উদ্যোগ অগ্রগতির পথে নিতে পারেন। তামিম জানিয়েছেন, বেটিং ও ক্রীড়া দুর্নীতির শাস্তি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে সংসদের স্পিকার, ক্রীড়ামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, বিষয়টি সম্ভব এবং তিনি এটি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ‘আমি শুধু বেটিং নয়, পুরো ক্রীড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন চাই। এখন দুর্নীতিবাজদের সবচেয়ে বেশি শাস্তি নিষেধাজ্ঞা; তাদের বুঝতে হবে ধরা পড়লে জেলও হতে পারে। তাহলে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে না—তবে অনেক কমে যাবে,’ তিনি বলেন।

চলমান বাংলাদেশ–পাকিস্তান মিরপুর টেস্টে সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকায় তামিম তাদের সামনেই বিষয়টি তুলেছেন বলে জানান। এছাড়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদেওর সঙ্গে ওই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তামিম অতীতের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় শুধু খেলতাম—জয়-পরাজয়, রান করা, উইকেট নেওয়া। এখন ছোটরাও এসবের সঙ্গে বেটিংয়ের মাধ্যমে জড়াচ্ছে; এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী সমস্যা। যেমন চুরি করলে জেলে যাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়, তেমনি বেটিংয়ে জড়ালে জেলে যেতে হতে পারে—এটা শেখাতে হবে।’

ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় দক্ষ পেশাদারদের ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমার পটভূমি, তাই এ দিকটি আমি বেশি বুঝি। কিন্তু বোর্ড চালাতে ভারসাম্য দরকার—অর্থনীতি, টেন্ডার, ক্রয় প্রক্রিয়া, স্পন্সরশিপ, মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং—এসবেও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এজন্য একজন সিইও আছেন; অন্য ক্ষেত্রে দক্ষ মানুষদের কাজে লাগাতে হবে। খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবর্তন দরকার এবং আমি সেই দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’

ভারতীয় সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন বিসিবির ব্যাংক হিসাবগুলোতে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা অপ্রয়োগ অবস্থায় রয়েছে—এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমি চাই আমাদের খেলোয়াড়রা ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে লড়াই করুক। কিন্তু তাদের জন্য আমরা কী করেছি? যদি আমরা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা না দিই, তখন তাদের কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করা কি ন্যায্য? আমার মনে হয় না।’

তামিম আরও বলেন, ‘টাকা স্থায়ী আমানতে রেখে দিলে আইসিসি বা স্পন্সররা সেজন্য অতিরিক্ত অনুদান বা সহযোগিতা দেয় না। তাই এই টাকা উন্নয়ন, অবকাঠামো ও খেলায় প্রকৃত বিনিয়োগে ব্যবহার করা উচিত—কমপক্ষে একটি শক্তিশালী পাইপলাইন ও অবকাঠামো তৈরি করার জন্য। এরপর খেলোয়াড়দের উপরে দায়িত্বে নামার সুযোগ থাকবে।’