যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি: ইরান

ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিক্রিয়া জানায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও তাদের সামরিক স্থাপনা সহিংসতা ও দাদাগিরির চক্র সৃষ্টি করছে, যা অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি অযৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করছে, যেখানে এর বিপরীতে ইরানের দাবিগুলো হলো—অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ মুক্তি দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা।

বাঘাই বলেন, ‘ইরান নিজেকে একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করে আসছে। আমরা কোনো দাদাগিরি করছি না; বরং দাদাগিরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছি।’ তিনি বিস্তারিতভাবে ইরানের দাবিগুলোর তালিকা তুলে ধরেন, যেখানে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, দেশের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করা এবং পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা।

ইরানের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে উদার ও দায়িত্বশীল বলে অভিহিত করে বাঘাই বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইরান লেবাননসহ অন্যান্য এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংকল্পবদ্ধ। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো বা অবরোধে সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকার। বাঘাই জানান, ‘যদিও এই যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে এটি শুধুমাত্র অনৈতিক নয়, বরং অবৈধও।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সৃষ্টি করছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নয় এই ফাঁদে পা দেওয়া। সকলের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল