সোমবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ক বিভাগীয় পর্যায়ের তামাক বিরোধী একটি গুরুত্বপুর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। তিনি বক্তব্যে বলেন, ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহৃত মারাত্মক ক্ষতি জনস্বাস্থ্যের জন্য। এই জন্য প্রয়োজন, ধূমপান ও তামাকের উৎপাদন, ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিজ্ঞাপনকে রুখে দেওয়া। পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একশ’ মিটারের মধ্যে কোন দোকানে তামাক বিক্রয় করা যাবে না। ১৮ বছরের নিচে কারো কাছে তামাক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধূমপান ও তামাকের ব্যবহারে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। যদি এই আইন কার্যকর করা সম্ভব হয়, তবে ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনলাইনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মোঃ আখতারউজ-জামান। খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সিফাত মেহনাজ, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার সহ আরও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিভাগীয় প্রশাসন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সভায় আলোচনা হয়, ধূমপান ও তামাক প্রতিরোধে নতুন আইন, ২০২৫ এবং সংশোধনী আইন, ২০২৬ এর বিষয়ে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরাও এই আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় বলা হয়, পাবলিক প্লেস, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলা এবং শিশু পার্কের সীমার একশ’ মিটারব্যাপী তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয় নিষেধ। কেউ যদি বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার জন্য জরিমানা নির্ধারিত হয়েছে, যা অবিলম্বে পাঁচ হাজার টাকা। পুনরায় একই অপরাধে ধরা পড়লে এ জরিমানার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ।
