চিকিৎসা নিতে গিয়ে গৃহবধূ সুমি মৃত্যুর কোলে ফিরে এলেন

নগরীর আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘাটাঘাটি ও অসচেতনতার কারণে একজন গৃহবধূ সুমির জীবন বিপন্ন হয়ে গেছে। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে, যা এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, ভুক্তভোগী সুমি বেগম (৩৪), রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ৭ মে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন, উপসর্গের জন্য। প্রথম দিনই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়, যেখানে নবজাতক শিশুটি জন্ম নিলেও কিছু সময় পরে মারা যায়। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

তবে শহর থেকে ফিরে অসুস্থতা আরও বেড়ে গেলে গত রোববার ভোরে তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার শরীরে আবারও অস্ত্রোপচার পরিচালিত হয়। তবে পারিবারের লোকজনের অভিযোগ, সফল অস্ত্রোপচার হয়নি। ওই সময় তার শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং চিকিৎসকদের উপযুক্ত মনোযোগ ও সেবা না পাওয়ায় তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

সুমি বেগমের শারীরিক অবনতি হলে তাকে আইসিইউয়ে স্থানান্তর করা হয়। সন্ধ্যার দিকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যান এবং জানতে পারেন, সুমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো না হওয়ার কারণে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় লোকে খুবই ক্ষুব্ধ ও হতবাক। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার মরদেহ শ্বশুরবাড়িতে আনা হয়।

সুমি বেগমের স্বামী মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, তার স্ত্রীকে ৮ মে অস্ত্রোপচার করানো হয়। প্রথমে সুস্থ থাকায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু দুই দিন পরে তার পেটে অস্বস্তি ও যন্ত্রণা বেড়ে গেলে, সর্বশেষ রোববার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আবারও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপারেশনের সময় পেটের ভেতরের নাড়ি কেটে ফেলার কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং এ কারণেই তার মৃত্যু ঘটে।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, অপারেশনের ধকল ও চিকিৎসার বেশ কিছু দুর্বলতার কারণে সুমি বেগমের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও স্পষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এলাকাবাসী ও পরিবার এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ থাকলেও, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।