যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৬) শনিবার (৯ মে) বিকেলে নিজ গ্রামের দাদা-দাদির কবরের পাশে সমাহিত হন। গোবিন্দপুর উত্তর কান্দি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলও হয়েছে।
জানাজার সময় মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেন। শোকস্তব্ধ এলাকায় শুভেচ্ছা ও আহাজারি মিশিয়ে আবেগঘন মুহূর্ত সৃষ্টি হয়।
দুপুর আড়াইটায় (প্রায় ১টা ১৫ মিনিট) মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যানটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বিদায় জানাতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষজবন দেখতে ভিড় করেন। গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের অঞ্চলগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা জানান, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বৃষ্টি; তার অকাল মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে—এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে কফিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর মা-বাবা, মামাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
শিক্ষাজীবনে নাহিদা উজ্জ্বল ছিলেন। ঢাকার নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি-তে জিপিএ-৫ এবং শাহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি-তেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন।
স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণ বৃত্তিতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি-র সুযোগ পান; ২৫ আগস্ট ২০২৫-এ তিনি যুক্তরাষ্ট্র যান। তবে ১৭ এপ্রিল নাহিদা ও তাঁর সহশিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। লিমন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তে বৃষ্টি ও লিমনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত দুই শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।
পারিবারিক ও সমাজিক সকল স্তরেই নাহিদার আচমকা প্রয়াণকে কেন্দ্র করে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁর স্মৃতিতে গ্রামের মানুষ ও সহপাঠীরা বিভিন্নভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।
