পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচারের জন্য সরকার নিরন্তর কাজ করছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। বৃষ্টির মরদেহ দুবাই হয়ে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দেশে পৌঁছায়। পরে তাঁর পরিবার মরদেহ গ্রহণ করেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি মিশন এবং ফ্লোরিডা বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকারের আশা, বৃষ্টির পরিবার সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পাবে।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সরকার বৃষ্টির পরিবারের যে গভীর শোক ও কষ্ট সেটি উপলব্ধি করে এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। তিনি বৃষ্টির আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। বৃষ্টির বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন বৃষ্টি (২৭) ও লিমন (২৭)। গত ১৬ এপ্রিল তাদের নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কারণ তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।
পরে গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর নিকট থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর পুলিশের তদন্তে জানানো হয় যে বৃষ্টিকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। লিমনের লাশ উদ্ধারের দিনই রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ; তার বিরুদ্ধে দুইটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত-প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে এবং সরকার বৃষ্টির পরিবারকে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রাখে।
