বিশ্বকবির শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অর্ধযুগের বেশি সময়ের অপেক্ষা

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শ্বশুরবাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহির ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়নি। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এর উন্নয়ন এখনো অর্ধেকের বেশি অপ্রাপ্ত। ফলে, এই ঐতিহাসিক স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য বিরামহীন হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ভবনগুলো দেখার সময় সেখানে যেতেও তেমন কোনও যোগাযোগ বা সংস্কার করা হয়নি। এর মধ্যেই আগামীকাল (৮ মে) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ও লোকমেলা আয়োজন, যা দক্ষিণডিহি মহাশহরে উৎসবের রূপ নেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে খুলনা জেলার তখনকার জেলা প্রশাসক কাজী রিয়াজুল হক এই স্থানে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ির দখলমুক্তির উদ্যোগ নেন। অবৈধ দখল ও অবহেলা মুক্ত হয়ে স্থানটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য ঠিক করা হয়। এরপর ২০০০ সালের ৮ আগস্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরবর্তীতে, দক্ষিণডিহি এলাকায় পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৯ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠায়; এর মধ্যে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।

২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই তহবিলের অর্থ ব্যয়ে ভবন সংস্কার, বাউন্ডারি ওয়াল, বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। এর আগে, ভবনের সামনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং তার পত্নী মৃণালিনী দেবীর বিশাল আক্ষরিক মূর্তি স্থাপন, পুরোনো ছবি দেওয়া ও মৃণালিনী মঞ্চের নির্মাণ হয়। তবে কবির কর্মময় জীবনের উপর সংগ্রহশালা, লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম, রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ও রেস্ট হাউসের মত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের দাবি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এ ছাড়াও পর্যটন কেন্দ্র, পিকনিক স্পট ও প্রবেশের রাস্তা প্রশস্ত করার কাজের অগ্রগতি খুব কম। একমাত্র সীমানা প্রাচীর, মূল ভবনের সংস্কার, লাইব্রেরি ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্মিত ছাউনী ও টয়লেটের কাজ দৃশ্যমান।

ফুলতলার সাবেক ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সময় দৃষ্টিনন্দন পার্কের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২০১৬ সালে এই স্থানটি ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে দেশি-বিদেশি দর্শকদের জন্য টিকেটের মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে দেশের দর্শকদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশীদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত।

করোনা মহামারীর কারণে গত তিন বছর ভ্রুক্ষেপে অনুষ্ঠান হয়নি। তবে এখন, রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে, ২৫ থেকে ২৭ বৈশাখ পর্যন্ত এই কমপ্লেক্সে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদযাপন খুবই উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য এই কমপ্লেক্সকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

আগামীকাল বিকেল ৩টায় এই তিন দিনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি হিসেবে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিদ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদ হুইপ রকিবুল ইসলাম এমপি, খুলনা-৫ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: আলি আজগার ও এস কে আজিজুল বারী, খুলনা বিভাগের কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক প্রমুখ। জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত এই বৃহৎ অনুষ্ঠানের সমন্বয় করবেন।

ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুচি রানা সাহা জানান, সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই সহযোগিতা করলে এই অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এ অনুষ্ঠানমেলায় সাধারণ মানুষের আগমন বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।