মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: নুর

প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য সরকার ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, দেশটির অর্থনৈতিক ও নীতিগত কিছু শর্ত পূরণ না হওয়ায় এখনো কাজটি সেরে ওঠেনি। শর্তগুলো নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেয়া সম্ভব হবে।

শুক্রবার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক অভিবাসী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নুরুল হক নুর উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার জন্য অতীতে মধ্যস্থতাকারী ও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে দুই দেশের পক্ষ থেকে সফর ও আলোচনা হয়েছে। তবে, এখনও কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে দশটি শর্ত দেয়া হয়, এর মধ্যে কিছু শর্তের জন্য প্রচেষ্টায় থাকলেও, কিছু এজেন্সি এই শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। সেটি অনুযায়ী, মোট ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে, সব এজেন্সিই শর্ত পূরণে সক্ষম হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, যদি মালয়েশিয়ার দেওয়া দশটি শর্ত সম্পূর্ণভাবে মানা হয়, তবে দেশের বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি সাময়িকভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এর ফলে বাংলাদেশে কার্যরত অধিকাংশ এজেন্সি এই শর্ত করতে অপারগ হবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে শর্তগুলো নিয়ে মোক্ষম আলোচনায় বসে সমন্বয় করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরে, ছয়টি মূল শর্তের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু মানদণ্ড নির্ধারিত হয়, এবং সেই অনুযায়ী ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, দেশে বর্তমানে অনুমোদিত এজেন্সির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হলেও, তাদের মধ্য থেকে মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০টি কার্যক্রমের জন্য যোগ্যতা রাখে। বাকিদের মধ্যেও কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি প্রতারণা বা স্ক্যাম সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এর ফলে, এজেন্সিগুলোর কার্যকারিতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়ে।