খুলনায় অভিভাবকবিহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম থমকে, পদপ্রার্থীরা লবিংয়ে

খুলনায় বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এক অস্থির ও অভিভাবকবিহীন সময় পার করছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকার কারণে সংগঠনটি কার্যত সাংগাঠনিক শস্থতায় পড়ে আছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও চূড়ান্ত নেতৃত্ব না থাকায় নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্তহীন পরিস্থিতির মধ্যে আছে এবং বিভিন্ন পদপ্রার্থীরা তৎপরভাবে লবিং চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল—যিনি খুলনা-৩-আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ—নিজেই খুলনার কমিটি সম্পর্কিত প্রক্রিয়া তদারকি করছেন। মাঠ পর্যায়ে কিছু ইউনিট কমিটি এখনো কার্যকর থাকলেও মহানগর ও জেলা স্তরের ‘শীর্ষ অভিভাবক’ না থাকায় সমন্বয় ও নেতৃত্বের স্বচ্ছ অভাব দেখা দিয়েছে।

মহানগর ছাত্রদলের পূর্ববর্তী কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠিত হয়েছিল, যেখানে ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহ্বায়ক ও তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য-সচিব করা হয়। ওই সময় এই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা ও মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে নতুন ইউনিট গঠন করে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিন বছরের মাথায়, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ওই কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের পরিস্থিতি আরও দীর্ঘসূত্রি — ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করে। এই সময় তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগরের সঙ্গে একই দিনে, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে মহানগর ও জেলা কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা করলেও, দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চিততার কারণে নির্দিষ্ট নতুন কমিটি দেয়ার কাজ অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং সংগঠনের গতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে।

নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এখন ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত চলছে—এটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। খুলনা মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সদস্য-সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ।

জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে নামের তালিকায় এগিয়ে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন প্রভৃতি।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, “মামলার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যদি কমিটি করা হয়, তাহলে প্রকৃত ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসবেন।” মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য-সচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, “ছাত্রদল হয়তো বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন, কিন্তু এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে—বর্তমান সংসদের অনেকেই ছাত্রনেতা হিসেবে শুরু করেছিলেন। দলকে ফের গতিশীল করতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন জরুরি।”

এখন সময় প্রার্থী-চর্চা ও লবিংয়ের; তবে সংগঠনের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দলে পরিষ্কার নেতৃত্ব ও স্বচ্ছতা জরুরি বলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন।