চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে দু’ওভার বাকি রেখে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের ঝড়ে উদ্বোধনী অংশটা কিঠিন হলেও মাঝের ওভারগুলোতে দলের দিকে ঝেড়ে ফুটে ওঠে আত্মবিশ্বাস।
শুরুটা কিছুটা নড়বড় হলেও তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন চতুর্থ উইকেটে জুটি গড়ে ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দেন। ইমন ঝড়ো ব্যাটিং করে ১৪ বলে ২৮ রান করে ফেরলেও তাওহীদ হৃদয় অপরাজিত ২৭ বল খেলতে ৫১ রানের হাফসেঞ্চুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তাদের সঙ্গে ডানহাতি ব্যাটার শামীম হোসেন পাটোয়ারি অপরাজিত ১৩ বলে ৩১ করে জয়ের পথে দলের কাজ সহজ করে দেন।
শেষ পর্যন্ত দুই ওভার বাকি থাকতেই বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় এবং সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এই জয়ের সঙ্গে একটি দাগও পড়ল টাইগারদের নামের পাশে — আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। দেশের সর্বোচ্চ সফল তাড়া করার রেকর্ডটি এখনও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে—২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রান তাড়া করে বিজয়টা গ্রহন করেছিল টাইগাররা।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিউই বোলারদের চাপে পড়েছিলেন ওপেনার সাইফ ও তানজিদ। ৫.৩ ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভেঙে গেলে কাগজে খেলার ছন্দে ঢুকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম উইকেটটি নেন নিউজিল্যান্ডের নাথান স্মিথ; সাইফ আউট হন ১৬ বলে ১৭ রানে, আর তানজিদ হন ২৫ বলে ২০ রানে। এরপর দলের মাত্র ১৫ বলে ২১ রান করে ফিরেন অধিনায়ক লিটন দাস। ১০.১ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন ৭৭ রানে, তবে এখান থেকেই ত্রয়ী—ইমন, হৃদয় ও পরে শামীম—ব্যাট হাতে দলকে সামলে টানেন।
নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানিয়ে চট্রগ্রামে সিরিজের প্রথম ইনিংস শুরু করেন বাংলাদেশ। কিউইরা শুরুতেই উইকেট হারায়; ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই টিম রবিনসন রান আউট হন। এরপর কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দ্বিতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। দুজনই ফিফটি পূর্ণ করেন—ক্লার্ক করেন ৩৭ বলে ৫১ (সাত চার ও এক ছক্কা), আর ক্লেভার করেন ২৮ বলে ৫১ (সাত চার ও এক ছক্কা)।
তবে তাদের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড খানিকটা চাপের মুখে পড়ে এবং দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর ফলে রানরেটও কমে যায়। প্রথম দশ ওভারেই ১০০ করে কিউইরা, পরের পাঁচ ওভারে যোগ করে মাত্র ৩০ রান। বেভন জ্যাকবস ১ রান করে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে ফিরে যান।
অধিনায়ক নিক কেলি কিছুটা চিন্তার গিয়ার সচল করেন, কিন্তু ইনিংস শেষ করাতে পারেননি—শরিফুল ইসলামের শিকারে তিনি ২৭ বলে ৩৯ রানে আউট হন। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে শরিফুল ইসলামের একটা গুরুত্বপূর্ণ বল ছিল কিউই অধিনায়ককে ফিরিয়ে দেয়া।
মোটকথা, মাঝের ওভারগুলোতে আক্রমণাত্মক এবং কৌশলী ব্যাটিংয়ের ফলে বাংলাদেশ লক্ষ্যটা সহজেই দাঁড় করাতে পারে এবং সিরিজ শুরু করে আত্মীয়তার সঙ্গে জয়ের স্বাদ নিয়ে।
