অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন লাশ গোপনের উপায়, আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে হিশাম আবুঘরবেহকে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানায়, আদালতের নথিতে উঠে এসেছে, হিশাম ১৩ এপ্রিল রাতে এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে ‘কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হয়’ এবং ‘তদন্তকারীরা কীভাবে এটি খুঁজে বের করবে’ বলে জানতে চেয়েছিলেন—যেসব প্রশ্ন নথিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

২৬ বছর বয়সী হিশামকে জামিল ও বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে প্রথম-ডিগ্রি মর্ডারের আওতায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে লিমনের বিকৃত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে লিমনকে বহুটি ধারাল অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে বৃষ্টিও আর জীবিত নেই এবং তার দেহ সঙ্গী হিশামই সরিয়ে ফেলেছেন।

আদালতীয় নথিতে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল সেই রাতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করার তিন দিন পর—১৬ এপ্রিল—লিমন ও বৃষ্টি সর্বশেষ দেখা গেছে। পরের দিন, ১৭ এপ্রিল হিশামের এক রুমমেট তাকে কিছু কার্ডবোর্ড বক্স তাদের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে ফেলতে দেখেন। পুলিশ ওই ডাস্টবিন তল্লাশি করে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও তার নামের ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করে।

পুলিশের খোঁজে একটি ধূসর টি-শার্টও পাওয়া যায়; ওই টি-শার্টের ডিএনএ পরীক্ষায় লিমনের জিনের মিল পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি কিচেন ম্যাটের ডিএনএ বৃষ্টির জিনের সাথেও মেলে। তদন্তে আরও জানা গেছে, হিশাম ওই রাতে বড় ডাস্টবিন ব্যাগ, লাইজল (পরিষ্কারক) ও সুগন্ধি স্প্রে কেনেন এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগও মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, বৃষ্টির ব্যবহৃত গোলাপি ফোন কভারসহ কিছু ব্যক্তিগত বস্তু হিশামের তরফ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে হিশামের প্রথম বক্তব্য ছিল, তিনি ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু লিমনের ফোনের লোকেশন ডেটা ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হিশামের গাড়ি সেই রাতেই হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে দীর্ঘ সময় টেকেছিল—ইভেন্টসাইট যেখানে পরে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়—যার ফলে তার বক্তব্য বদলাতে বাধ্য হন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশামের বাঁ হাতের আঙুলে ও পায়ে ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়; তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটার সময় দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, প্রাপ্ত অব্যাহত তথ্য ও আলামত থেকে বিরূপ চিত্র প্রতীয়মান হচ্ছে।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) তল্লাশিকালে কিছু ‘মানুষের দেহাবশেষ’ উদ্ধার করা হলেও তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। হিশামের বিরুদ্ধে হত্যার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটক, মৃত্যুর খবর না জানানো, মৃতদেহ সঠিক স্থানে না রাখা ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই হিলসবোরো কাউন্টি জেলে আছেন; মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী মঙ্গলবার।

হিলসবোরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসের হোমিসাইড ব্যুরোর প্রধান জেনিফার স্প্র্যাডলি তাদের পক্ষে কোনো মন্তব্য নেই বলে ইমেইলে জানিয়েছেন। অপরদিকে, চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখনো এই ঘটনার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি।

সংবাদমাধ্যম সিএনএনের পূর্বের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জামিল লিমন তাকে শেষবার ১৬ এপ্রিল সকালে টাম্পার ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে তার বাড়িতে দেখা গেছে। একই দিন সকালে নাহিদা বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের প্রকৃতি ও পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনে দেখা গিয়েছিল। তথ্যসূত্রে বলা হয়েছে, উভয়ই ২৭ বছর বয়সী এবং সম্ভাবনাময় ডক্টরাল গবেষক ছিলেন; তারা বন্ধু হিসেবে শুরু করে সময়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে বিয়ের কথাও ভেবেছিলেন।

ফ্লোরিডায় তাদের নিখোঁজের খবর জানার পর তাদের বন্ধু ও পরিবারের লোকজন ক্ষণিকের মধ্যে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। ঘটনার পর তদন্ত ও সমাজে উদ্বেগ ছড়িয়েছে—স্থানীয় শেরিফের অফিস বলছে এটি একটি গুমরাহ کننده ঘটনা যা পুরো সম্প্রদায়কে দাগ কেটেছে। (সূত্র: এনবিসি নিউজ, সিএনএন)