‘ঝুমুল’ বৃষ্টিতে সিলেট-ময়মনসিংহে আগাম বন্যার শঙ্কা

প্রবল বৃষ্টিপাতের একটি প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করেছে—এমনই সতর্কতা দিল বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম লিমিটেড (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটি শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এ পূর্বাভাস জানিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখীসহ বজ্রবৃষ্টি দেখা গেছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল—বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আগাম বন্যার শংকা জেগে উঠেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও ঘণীভূত এই আশঙ্কাকে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। তার ভাষ্য, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে, ফলে ওই বিভাগের কিছু অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিডব্লিউওটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘ঝুমুল’ বৃষ্টিপাতের বলয় আগামী ৭ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। এই সময়ে দেশের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

উজানের ভারতের মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জি এলাকায় বড় পরিমাণ বৃষ্টি (প্রতিসময়ে প্রায় ৫০০-৭০০ মিমি) হতে পারে—যার ফলে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়ে দেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব বন্যা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম; পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত প্রথমদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত জাতীয় বিস্তারে ৭০-৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়বৃষ্টি रहने সম্ভাবনা রয়েছে—যদিও মাঝে এক-দুই দিনের বিরতি দেখা দিতে পারে।

ঝড়ের সময় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিমি পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত বেশি থাকতে পারে; কিছু অঞ্চলে এর চেয়েও বেশি বা কম হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হাওর অঞ্চলের চলমান ধান কাটা ও কৃষি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে। দীর্ঘ সময় টানা বৃষ্টি হলে কৃষি উৎপাদনে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে।

বিডব্লিউওটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের কিছু নিচু এলাকায় অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের নদী-হাওরে পানি আকস্মিকভাবে বাড়তে পারে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশের ফেসবুক পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার রাত ৭টা থেকে রোববার সকাল ৮টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরও জানিয়েছে, ঢাকাসহ ছয় বিভাগে আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে এবং শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (পাঁচ দিনের) পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘‘তাপমাত্রা ৪৫-৫৭ ডিগ্রি’’ জাতীয় গুজবটি বিডব্লিউওটির মশিউর রহমান সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই; বরং বৃষ্টিপাত বাড়ার ফলে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা দেখা যাবে।

আবহাওয়া দফতর ও বিপর্যয় প্রস্তুতিমন্ত্রীদের পরামর্শ: ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা, খোলা মাঠে না থাকা, নদীপথে যাতায়াত সীমিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা নিম্নাঞ্চলে অগ্রিম প্রস্তুতি নেওয়া। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।