তনু হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর কারাগারে

কুমিল্লায় তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান এই আদেশ দেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে জানা যায়, তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে তথ্য হাতে এসেছে তা যাচাই-বাছাই করার পর আদালতে হাফিজুরকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তের স্বার্থ বিবেচনায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডকালে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “রিমান্ডে আমরা আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়া তাঁর ডিএনএ সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এর আগে গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর পর এই মামলায় এটি প্রথম প্রথম গ্রেপ্তারি—যা পুনরায় তনু হত্যাকাণ্ডকে আলোচনায় এনেছে।

তদন্তসূত্রে আরও বলা হয়েছে, ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করে তিন সন্দেহভাজনের—অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম—ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচের অনুমতি চান। আদালতের নির্দেশনার পরে তদন্তে গতি আসে এবং সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরেই বিচারপ্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি দেখেছেন এবং নির্ধারিত অনেক তারিখ পেরিয়ে গেলেও মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ সময় ধরা পড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, চলমান জিজ্ঞাসাবাদ ও পরীক্ষার ফলে ঘটনার বাকি কড়িগুলোও ধীরে ধীরে পরপর খুলে আসবে।