আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হলো ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর পাঠবৃত্ত’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর একাডেমিক ভবনের মাল্টিপারাপাস রুমে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল জীবনকে উপভোগ্য করার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আত্মহত্যার মতো গভীর ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সম্পর্কে halka সচেতনতা বাড়ানো। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের প্রধান ও কলা ও মানবিক বিজ্ঞান কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ দুলাল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণে বলেন জীবন অনেক সূক্ষ্ম ও মূল্যবান উপহার, তাই এটির সঠিক মূল্যায়ন ও যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ড. মামুন হুসাইন। তিনি বলেন, বিশ্ববরেণ্য লেখক, কবি ও দার্শনিকরা নিজেরা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। মানুষের মানসিক সমস্যা গত কয়েক দশকে ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে সচেতন ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা অনুসূয়া মন্ডল ও ঋত্তিকা কর্মকার। সভার শেষাতে বিশেষ অতিথিদেরকে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই সেমিনারটি একান্তই মানবিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।