শার্শায় ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা: বিপাকে ১২ শিক্ষার্থী

যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র ব্যবহারের ঘটনায় অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আতঙ্কে এবং নিজের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায়। বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৫৩১)-এর ২০৬ নম্বর কক্ষে ওই দিনে ২৩ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষার পরে একজন পরীক্ষার্থী বুঝতে পারেন যে তিনি ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাস অনুযায়ী থাকা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন, যদিও তিনি নতুন সিলেবাস অনুসারে পরীক্ষার্থী ছিলেন। এ তথ্য শিক্ষকদের জানালে তদন্তে আরও ১১ জন শিক্ষার্থী একই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করা যায়।

ঘটনাটি সামনে আসতেই কেন্দ্রের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ আছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে পরীক্ষার্থীদের দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার অনুরোধ করা হয়, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা মর্মাহত ও বিব্রত বোধ করে এবং অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয়রা প্রশ্ন করছেন—একই কক্ষে একই বিষয়ে একাধিক ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে পৌঁছালো? কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা আগে প্রশ্নপত্র যাচাই করেননি কেন? ভুলের দায় কার? এই ব্যর্থতা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে অভিভাবক ও স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অভিভাবকরা সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুল আর না ঘটে।

হল সুপার ও সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, একই কক্ষে কীভাবে ভিন্ন প্রশ্নপত্র এলো তারা নিজেরাও বুঝতে পারছেন না এবং বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে জানানো হবে। শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান বলেছেন, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে; তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

অপর দিকে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা মেটাতে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে তদন্ত চালিয়ে উপযুক্ত সমাধান প্রদানে তৎপরতা নেওয়ার চাপ now স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের উপর বলার মত।