ডোপিং ঝুঁকিতে ভারত: এআইইউ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে তুলেছে এএফআই

অ্যাথলেটিকস ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (এআইইউ) গতকাল প্রকাশিত তালিকায় ভারতের নাম শীর্ষেই উঠে এসেছে। এআইইউয়ের নতুন তালিকায় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এএফআই)কে ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে ঝুঁকিপূর্ণতর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্যাটাগরি ‘এ’ তে থাকা মানে ভারতীয় অ্যাথলেটদের উপর এখন থেকে বাড়তি নজরদারি থাকবে — আরও বেশি ডোপিং টেস্ট, কড়া নিয়মকানুন এবং বাড়তি রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক হতে পারে। বিশেষত আউট-অফ-কমপিটিশন টেস্ট এবং ‘হোয়্যারআবাউটস’ সিস্টেমে কঠোরতা লক্ষ্য করা হবে, যাতে আরোপিত নিয়ম না মানলে সার্বিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

এআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অ্যাথলেটিকসে ডোপিং আইন লঙ্ঘনের ঘটনার বিচারে ভারতের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এআইইউ চেয়ারম্যান ডেভিড হাউম্যান জানিয়েছেন, ‘‘ভারতে ডোপিং অবস্থা অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। এএফআই ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল ঠিকই, তবে বাস্তবে সেরকম পরিবর্তন দেখা যায়নি।’’

এআইইউ একটি স্বাধীন সংস্থা; এটির কাজ হলো অ্যাথলেটিকসে ডোপিং ও অন্যান্য অনিয়ম রোধ করা। ক্যাটাগরি ‘এ’ তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এখন ভারতও রয়েছে — যেখানে আগে ছিলেন রাশিয়া, বেলারুশ, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশগুলো।

ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক হওয়ায় এই রিপোর্টটি দেশটির জন্য আরও চিন্তার বিষয়। আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং কড়া নিয়মমানা না হলে আয়োজক হিসেবে বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

আপাতত এএফআই, ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও কোচিং নেটওয়ার্ককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে—শিক্ষামূলক কর্মসূচি, নিয়মিত টেস্টিং ও স্বচ্ছতা বাড়ানো অবিলম্বে জরুরি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী ভারতীয় তীরন্দাজ প্রথমেশ জয়করকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা নতুন সতর্কবার্তাও বয়ে এনেছে।

সংক্ষেপে, এআইইউর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভারতের ক্রীড়া পরিচালনায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে, না হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিষেধাজ্ঞা ও সুনামের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়বে।