তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ২৬ রানে হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের কাছে। এই হার যেন সিরিজের খেলা থেকে 영역 হারানোর মতো ছিল। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ই ছিল স্বাগতিক দলের জন্য একমাত্র মানে, যাতে সিরিজের সমতা ফিরে আসে। মিরপুরের মাঠে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত মনোভাব 보여 দিয়ে কোনো ভুল করেননি। বাংলাদেশের পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের ফলস্বরূপ তারা নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকে্যাটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে।
প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস খুব טוב শুরু করতে পারেনি। তারা সব মিলিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের জন্য এই লক্ষ্য সহজ ছিল। এর জবাবে শুরুতেই বাংলদেশের ব্যাটসম্যানরা দৃঢ়তার সাথে খেলেছেন। ৮৭ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
১৯৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন সাইফ হাসান। প্রথম বলেই চার হাঁকান তিনি, আর একই ওভারে আরও একটি চার মারেন। কিন্তু তার ঝলক দেখানোর পরই চতুর্থ বলেই আউট হয়ে যান। এরপর সৌম্য সরকার ক্রিজে আসেন। প্রথম বলেই দুই রান নিয়ে শুরু করেন। কিছু সময় ধরে ধীরস্থির খেলা শুরু করেন তিনি। কিন্তু চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলের অসাধারণ হাঁকানো ছক্কা দিয়ে শুরু করেন দ্রুত রান সংগ্রহ। তবে শেষ ওভারে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন ১১ বলে ৮ রান করে।
তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্ত আসায় দলীয় স্কোর বড় করতে শুরু করেন। তার সহযোগিতায় তানজিদ হাসান তামিম জুটি গড়ে ১২০ রান তুলেন। এই জুটির ওপর ভর করে জয়ের ভিত্তি নির্মিত হয়। শান্ত ৭১ বলে ৫০ রান করে আউট হন, তিনি চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। অন্যদিকে, তানজিদ হাসান ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে ৭৬ রান করে আউট হন। তিনি ৫৮ বল খেলে চারটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন। শান্ত অবশ্য আউট হননি। নিজের শেষ ইনিংসটি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হতাশাজনক ছিল। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের কাছে খুব দ্রুতই বিপদে পড়েন। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে তারা ২৮ রানে ২ উইকেট হারায়। দুই উইকেটই নাহিদ হাসান নিয়েছেন—the প্রথমে হেনরির LBW, পরের বলে উইল ইয়াংয়ের ক্যাচ। এরপর অধিনায়ক টম লাথামকেও সৌম্য সরকারের ক্যাচে ফেরান নাহিদ।
নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ৫৬ রানে আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ১৪ চারসহ ১০২ রান করেন। মুহাম্মদ আব্বাসের ইনিংসটি ১৯ রানে শেষ হয়, তাকে ক্যাচ আউট করেন লিটন দাস। এরপর, ৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন মিলে জুটি গড়েন। কেলি ১০২ বল খেলে ১৪ চার ও ১ ছক্কায় ১০২ রান করেন। কিন্তু এরপর দ্রুতই তাদের উইকেট ঝরে পড়ে। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে আউট করেন।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ভেঙে পড়ার পরপরই বাংলাদেশি বোলাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলতে থাকেন। রিশাদ হোসেন জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন, এরপর ডিন ফক্সক্রফটের ১৫ রান তুথিয়াদে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। ব্লেয়ার টিকনারের ক্যাচও ধরেন শরিফুল। নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেটটি নেন। জেইডেন লেনক্স বোল্ড হয়ে যান ইয়র্কারে। এই পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ৯ উইকেট নেন নাহিদ, কিন্তু ১৮৩ রানে অলআউট হন তারা।
তাদের প্রথম ইনিংসের মতোই অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের পাল্টা জবাব। শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশের বোলাররা সমানতালে লড়াই চালিয়ে যান। দুর্দান্ত এই জয় নিশ্চিত করে দলটি বর্তমানে সিরিজে সমতা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই ম্যাচের পর সিরিজটি এখন তিনটি করে ম্যাচে সমান। আগামী ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ নিজের প্রস্তুতিও অনেকটাই বেড়ে গেছে।
