মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ২৪ ঘণ্টাও বরদাশত করব না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, তার আগের মন্ত্রণালয়কাল (২০০১–২০০৬) কেউ দুর্নীতি করে ২৪ ঘণ্টাও বাঁচেনি এবং তিনি বর্তমানে সেই নীতিই বজায় রেখেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, আজও তিনি একজনকে দায়িত্বমুক্ত করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাসময়সূচি ও সিলেবাস নির্ধারিত সময়ে হবে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আপনারা কি চান আমরা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জীবন থেকে এক বছর কেটে নিয়ে আসি—এসএসসি বা এইচএসসি পাস করার সময় বছর বাড়াই?’’ তার বক্তব্য ছিল, কোর্স যেখানে শুরু হবে সেখানে ঠিক সময়েই শেষ হবে এবং তাতে কোনও ছুটি বা বিলম্ব হবে না।

সাংবাদিকদের যখন বলা হয় যদি কোর্স ডিসেম্বরে শেষ হয় তাহলে পরীক্ষা কবে হবে, মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘‘আমি জানুয়ারিতে কোর্স শুরু করে ডিসেম্বরে শেষ করাই বলেছি, তাই কোর্স শেষ হলে পরীক্ষা নেয়াই হবে। এটা আমি স্পষ্টভাবে বলেছি।’’

বোর্ডগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, ‘‘আমি বোর্ডের সক্ষমতার উপর টিকে কাজ করি না; আমি দেখছি ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করছে কি না। বোর্ডের কোনো কারণে পরীক্ষা পেছাব না। কি করে বোর্ডের কারণে ২০ লাখ ছাত্রছাত্রীর জীবন থেকে এক বছর নষ্ট করা যায়?” তিনি উদাহরণ বলেন—এমনটা হতে দেয়া হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান শিক্ষাবর্ষ যেখান থেকে শুরু হবে, তাদের কোর্স ঠিক সেইভাবেই শেষ করে পরীক্ষাসময়সূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি সবার জন্য সিলেবাস এমনভাবে সাজাবেন যাতে বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সময় নষ্ট না হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার রুটিন ‘পরীক্ষার দিন’ দেওয়ার আভাস নিয়ে ট্রলিং হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি সঠিক নয়। তিনি জানান, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন তাকে ফোন করে পরীক্ষার রুটিন কবে দেবেন—এমন প্রশ্ন করেছেন। মন্ত্রী বলছেন, রেজাল্ট বের হওয়ার পর রুটিন প্রকাশ করা হবে; সামাজিক মিডিয়ার কল্পকাহিনি শিশুদের ভয়ে ফেলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি দেশে বিভিন্ন স্থানে হেলিকপ্টার ভ্রমণে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন মন্ত্রী। সেই সফরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে挑েঞ্জ ছুঁড়েন—যে সাংবাদিকরা তাঁর সঙ্গে সফরে গিয়েছিলেন তারা যদি দুর্নীতির সাক্ষী হয়ে থাকেন তবে প্রমাণ দেখাক। তিনি বলেন, তিনি যাদের সঙ্গে যাতায়াত করবেন তা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার; এটিকে দুর্নীতির সংগে মিলিয়ে দেখাই দোষসিদ্ধ করা হয়েছে।

শেষে মন্ত্রী পুনরায় বললেন, ‘‘আমি ওই মন্ত্রী—এই মন্ত্রণালয়ে কেউ দুর্নীতি করলে ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না। আমি এ নীতি অব্যাহত রেখেছি, আজকেও একজনকে বিদায় দিয়েছি।’’