আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রায় এক বছর আগে বিদায় নিলেও ক্রিকেটের প্রতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ভালোবাসা অটুটই রয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০ বছরে পা দেওয়ার পরেও দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আফসোস নেই তার। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ছেড়ে এবার তিনি যোগ দিলেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। দীর্ঘদিন পর প্রাইম ব্যাংকের জার্সি হাতে ফেরায় উচ্ছ্বসিত ছিলেন তিনি।
দলবদলের পর সংবাদমাধ্যমকে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এই দল নিয়ে খুব খুশি। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে পুরো স্কোয়াড যেভাবে সাজানো হয়েছে, তা সত্যিই দারুণ।’’ তিনি জানান, টপ অর্ডারে তামিম ইকবাল, আজিজুল, শাহাদাত হোসেন দীপু ও আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছেন। মিডল অর্ডারে নিজে ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির সঙ্গে কম-বেশি তরুণ ক্রিকেটাররাও আছে।
বলের দিকেও দলের ভারসাম্য ভালো বলেই মনে করেন তিনি। ‘‘পেস ও স্পিন—উভয় বিভাগেই আলিস আল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রায়ান রাফসান ও এনামুলের মতো বোলাররা রয়েছেন। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশেল আমাকে আশাবাদী করছে,’’ যোগ করেন মাহমুদউল্ল্লাহ।
প্রায় এক দশক পর আবার প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলতে পেরে ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘২০১৫ সালের পর এভাবে ফিরে আসার সুযোগ পাওয়াটা বিশেষ। প্রাইম ব্যাংক বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেটারদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করেছে—এটা তাদের বড় যোগদান।’’
মাঠে খেলার পর ক্রিকেটারদের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘‘খেলে কষ্টের পরে ক্রিকেটাররা চান তাদের পারিশ্রমিক ঠিকঠাক পাওয়া। প্রাইম ব্যাংক এই দিক থেকে প্রিমিয়ার লিগের একজন স্তম্ভ।’’
একই সঙ্গে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতিত্ব করা তামিম ইকবালকে কৃতিত্ব জানাতে ভোলেননি মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘‘কৃতিত্ব দিতে হবে তামিমকেই—ওই উদ্যোগের কারণে এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্যই এটা ক্রিকেটারদের জন্য বড় আয়ের উৎস, কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই মাঠে থাকতে চাই, খেলতে চাই। মাঠে খেলার সুযোগের কোনো বিকল্প নেই।’’
