খুলনাসহ পাঁচ বিভাগের ৩৭৮ নারী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলো বিএনপি

তাদের চূড়ান্ত সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শুক্রবার প্রথম পর্যায়ে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার মোট ৩৭৮ নারী প্রার্থীকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই কার্যক্রম দুপুরে দলের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের প্রধান নেতা ও মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক। সাক্ষাৎকারের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে যেসকল নারী মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই প্রক্রিয়া বিএনপির নিজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়, যেখানে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। তিনি বলেন, এই সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের আন্দোলনে অবদান, ত্যাগ, যোগ্যতা ও সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়। সকালে, প্রার্থীরা গুলশানে অফিসের বাইরে উপস্থিত হন, যেখানে তাদের ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে নিরাপত্তার জন্য শুধু প্রার্থীরাই প্রবেশ করেন অফিসে। প্রার্থীরা ভেতরে থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, তারা সাক্ষাৎকারের সময় দলের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও মনোভাব প্রকাশ করেন। প্রার্থীরা জানান, সাক্ষাৎকারে তাদের দলের জন্য অবদান, আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মূলত দুইটি প্রশ্ন করেন: যদি মনোনয়ন পান, কি করবেন, আর না পেলে কি করবেন? তারা এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেদের অবদান, দলপ্রেম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। খুলনা-বাগেরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী ফারজানা রশিদ লাবনী বলেন, আমি গত ৩৮ বছর ধরে বিএনপির সাথে রয়েছি এবং দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, মানা হবে। মনোনয়ন পেলে বা না পেলে, আমি সব পরিস্থিতিতেই দলের জন্য কাজ করে যাব। অন্যদিকে, পাবনা থেকে আসা আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, দলের পক্ষ থেকে যেকেউ মনোনয়ন পাবেন, তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকাকালীন অভিজ্ঞতা থাকার কারণে, তারা ভবিষ্যতেও দলের জন্য কাজ করে যাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। দিনাজপুর থেকে আসা প্রার্থী আইনজীবী তৌহিদা ইয়াসমিন তানিন বলেন, প্রার্থীরা কী পদে আছেন বা তাদের ইতিমধ্যে কি অবদান আছে – এই বিষয়গুলোও আলোচনা করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রার্থীদের জন্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে, যার মধ্যে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল, বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিলের জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল মনোনয়ন বাতিল হলে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নেওয়া হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিশ্চিত হওয়ার পরে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে, এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত হয় ১২ মে। এবারের আসন বণ্টনে বিএনপি ৩৬ টি, জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।