মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করার দায়ে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি বিধান করে জাতীয় সংসদে আইন তৈরি করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন যে তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়াতুল্লাহর বংশধর। হাজী শরীয়াতুল্লাহর অন্যায় ও জুলুমবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তিনি সংসদে শোষিতদের ও উলামায়ে কেরামের কণ্ঠস্বর হিসেবে দাঁড়িয়েছেন।
হানজালা বলেন, দেশের ৩০ থেকে ৪০ লাখ উলামায়ে কেরাম সংসদের দিকে তাকিয়ে আছেন যেন তাদের অনুভূতিগুলো জাতীয় সংসদে প্রতিফলিত হয়। তিনি ধর্মীয় অনুভূতির গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ মুসলমান; তারা হয়ত নিয়মিত নামাজ না পারলেও মহানবীর শানে ছোটখাটো কটূক্তি হলেও তাদের হৃদয় আহত হয় এবং তারা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়। বারবার নবীকে নিয়ে কটূক্তি ও অশ্লীল গালিগালাজের ঘটনার ফলশ্রুতিতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন—এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হিসেবে তিনি মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ আইন প্রণয়নের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, যারা মহানবীকে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার জন্যও আইন করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হানজালা বলেন, ‘‘আপনি যদি চান তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি ইতিহাস রচনা করা যাবে—আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা উচিত যে, যারা নবীর খতমিয়ত মানবেন না, তারা মুসলিম হিসেবে পরিচয় পাবে না।’’ তিনি মনে করেন এই ঘোষণাটি জাতীয় সংসদ থেকেই আসা উচিত।
বক্তব্যের শেষ অংশে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয়রা তাকে ‘হাদি হত্যা’ মামলার ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। হানজালা সংসদকে অনুরোধ করেন যে মহানবীর সম্মান রক্ষা এবং ইসলামের মৌলিক আকীদা সংরক্ষণে সংসদ সক্রিয় ও কার্যকরি ভূমিকা রাখবে।
