নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অর্জন সন্তোষজনক নয়

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গঠন হওয়া সরকারের দুই মাস কেটে গেলেও নাগরিকদের জীবনমান সহনীয় করতে তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন দেখা যায়নি। জ্বালানি সংকটে সারা দেশে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, নিত্যপণ্যের দাম আগেই নাগালের বাইরে ছিল — এখন তা আরও বেড়েছে। প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর মতো হৃদয়বিদারক খবর আসছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও প্রত্যাশামত উন্নত হয়নি। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন অনেক ক্ষেত্রে আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘দায়িত্বশীল তারবিয়া’ বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা নগর সভাপতি আলহাজ্ব মুফতী আমানুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন এবং সেক্রেটারি আলহাজ্ব মুফতী ইমরান হুসাইন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, সংস্কার নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জনমনে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন অধ্যাদেশ — গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সম্পর্কিত অধ্যাদেশসমূহ বাতিলের কারণে জনমনে সরকারের নীতি ও মনোভাব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারা বারবার এসব অধ্যাদেশ বাতিল না করার অনুরোধ করলেও তা বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে জনগণের মধ্যে ‘আওয়ামী আমলের মতো দুঃশাসন’ ফিরে আসার আশংকা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার আবারও স্বৈরাচারী আচরণ করে তাহলে তাদের বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হবে।

বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, এবং আবু গালিব, শেখ হাসান, ওবায়দুল করিম।

আরও বক্তব্য রাখেন নগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, আলহাজ্ব আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাঃ দ্বীন ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি ইসহাক ফরীদি, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক গাজী ফেরদাউস সুমন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, কাদেরি মোঃ জামাল উদ্দিন ও মাওঃ নাসিম উদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, বন্দ সরোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব মোঃ বাদশা খান, আলহাজ্ব মারুফ হোসেন, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, মুফতি আমানুল্লাহ, এইচ এম আরিফুর রহমান, গাজী মিজানুর রহমান, মোঃ মঈন উদ্দিন, সদস্য আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম টুটুল মোড়ল, মোঃ শহিদুল ইসলাম সজিব, মোঃ কবির হোসেন হাওলাদার, আবুল কাশেম, মোঃ বাদশা খান, মোঃ মিরাজ মহাজন, শ্রমিক নেতা মৌলভী আল আমিন, যুব নেতা মোঃ আব্দুর রশিদ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম নেতা হাফেজ মাওলানা ইমদাদুল হক, ছাত্র নেতা মোঃ মাহদী হাসান মুন্না সহ আরও আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অবশেষে নেতৃত্বরা সরকারের প্রতি আবারও জোরালো আহ্বান জানান—দ্রুত সময়ের মধ্যে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, মূল্য স্থিতিশীল করা, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নিলে জনগণের আস্থা ফেরত আসতে পারে।