ইরানের যুদ্ধের কারণে ৩ কোটি বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে, জাতিসংঘের আশঙ্কা

ইরানের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রাহ্মণসংস্থা জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই বিপদ তো শুধু উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির শেকড়ে অসুস্থতা ডেকে আনছে। খাবার, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আগের অবস্থা থেকে অন্যরকম একটি ঝড় এমনকি তৈরি হতে চলেছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি জানায়, সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক উন্নয়নের বিভিন্ন সফলতা ফের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে। এটি এক ধরনের বিপদের সংকেত, যা বিভিন্ন অঞ্চলের জীবনে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রতিফলিত হবে। সংস্থার প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, যুদ্ধের অবসান হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব এখনও কাটেনি আর চলমান এই পরিস্থিতি আরও বেশি দুর্দশার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিশ্বের নেতৃত্বরা এই সময়ে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে – কীভাবে এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দেয়া যায়। বিশেষ করে, ইউএনডিপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহের বেশি বিঘ্ন ঘটে এবং উচ্চ মূল্য চলমান থাকে, তাহলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে পড়ে যেতে পারেন।

এই প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত ‘আপার-মিডল-ইনকাম’ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা। এর মান অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ৮ দশমিক ৩০ ডলারের কম, তারা এই সীমার মধ্যে आते ہیں।

বিশ্বের দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই হারে অর্ধেকের বেশি হয়তো দেখা যাবে সেই ৩৭টি দেশ যেখানে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বেশি। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।