ভারতীয় সংগীতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো বৃহস্পতিবার নয়, গেল রোববার—কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদে সংগীত ও চলচ্চিত্র জগৎ স্তব্ধ; ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগের রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়লে আশা ভোসলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সংক্রমণ ও বয়সজনিত জটিলতায় তিনি লড়াই করছিলেন; শেষ পর্যন্ত একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়াই মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হবে তাঁর শেষকৃত্য। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় মরদেহ নেওয়া হয় লোয়ার পারেলের ভাসভবনে; সেখানে আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভক্ত-অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোসলে জানিয়েছেন, ‘যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁরা বেলা ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে আসতে পারেন।’ পরিবারের দফতর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শেষদর্শন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত, এরপর বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।’
আশা ভোসলের সৃষ্টি ও সঙ্গীতজীবন ছিল অসামান্য দীর্ঘায়ু- সাত দশকেরও বেশি সময়ে তিনি গান করেছেন ১২ হাজারেরও বেশি। হিন্দির পাশাপাশি ২০-র বেশি ভাষায় তিনি গেয়েছেন; গজল, শাস্ত্রীয় ও আধুনিক ধারাতেও তাঁর দখল চিরস্মরণীয়। তাঁর সর্বোচ্চ জাতীয় স্বীকৃতি—দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণসহ একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত ছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠস্বর আজও বহু কালজয়ী গানে সবার মনে বেঁচে আছে।
আশার প্রয়াণে বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের অসংখ্য তারকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ব্যক্ত করেছেন। মনোজ বাজপেয়ী লিখেছেন, ‘আমাদের অনেকের মতো আমিও আশাজির গান শুনে বড় হয়েছি। তাঁর কণ্ঠ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং মুগ্ধ করেছে। তাঁর গান চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে।’ দক্ষিণি তারকা রামচরণ বলছেন, ‘ভারতীয় সংগীতের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কণ্ঠ ছিল খাঁটি জাদু।’ মিলিন্দ সোমান তাঁকে ‘একজন কিংবদন্তি’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। শাহরুখ খান, কাজল, শ্রেয়া ঘোষাল, কারিনা কাপুর খান, ভিকি কৌশল, রাম গোপাল ভার্মা, আনু মালিক, কমল হাসান, জুনিয়র এনটিআর সহ আরও বহু নাম প্রকাশ্যে শোক জানিয়েছেন।
গতকাল রাত থেকেই আশা ভোসলের বাসভবনে ভিড় করেছেন শিল্পী, পরিচিতজন ও শ্রদ্ধাশীলরা; সেখানে দেখা গেছে জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, এ আর রহমান, বিদ্যা বালন প্রমুখকে।
সংগীতপ্রেমীদের অন্তরে আশা ভোসলের যে জায়গা, সেটি সহজে পূরণ হবে না। তাঁর বহুমাত্রিক কণ্ঠ, অসংখ্য হিট গান ও ভিন্নধর্মী সুরের নিপুণ সমন্বয় ভবিষ্যত প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করে যাবে।
