দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহে অসুবিধা ও সংকটের প্রভাব এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে, বেনাপোলে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যহত হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খরচে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটছে। মূলত গন্তব্য অনুযায়ী ট্রাক ভাড়া ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে ট্রাক সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের সতর্কতার সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এলাকার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগে যেখানে ট্রাক ভাড়া ছিল ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকায় পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রাম রুটে, যেখানে আগে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাগত ১৫ টন পণ্য পরিবহনের জন্য, সেখানে এখন গুণতে হচ্ছে ৪০-৪২ হাজার টাকা। এই অপ্রত্যাশিত ভাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাঁদের মনে হচ্ছে, এর প্রভাব পণ্য ও খাবারের দামেও পড়বে।
বেনাপোলের স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সহিদ আলী বলেছেন, পূর্বের মতো পণ্য খালাসের জন্য দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক চলাচল করত, কেউ কেউ এতে তেল সংকটের অজুহাতে গত ২ এপ্রিল থেকে ট্রাক ভাড়া তিন থেকে চার হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক শ্রমিক কাজ হারানোর সম্মুখীন হচ্ছেন এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ট্রাক চালক আরিফ বিল্লাহ বলেন, সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে, কিন্তু বর্তমানে পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও তা দূরপাল্লার মালামাল পরিবহনের জন্য যথেষ্ট নয়। গত এক সপ্তাহে ট্রাক ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে, আমাদের ট্রাক দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়াই কঠিন হবে। অন্য আরেক চালক, আব্দুল মতিন, বলেছেন, তিনি পাবনা যাচ্ছেন কেমিক্যাল পরিবহনের জন্য এবং আগের চেয়ে চার হাজার টাকা বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এই ভাড়া বৃদ্ধি পণ্যদ্রব্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে ডিপোজিটে তেলের সমস্যা নেই, তবুও ট্রাক মালিকেরা ভাড়া বাড়াচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই অসুবিধাজনক।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি বলেছেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের কোন বড় সমস্যা না থাকলেও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। পাম্পে চাহিদার অর্ধেকেরও কম ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিবহন খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বেনাপোলের দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর হিসেবে, এখানে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। বর্তমানে তেলের সংকটের কারণে এই পণ্য পরিবহন জটিল হয়ে পড়েছে এবং ট্রাক ভাড়া বিগত এক সপ্তাহে ৭-৮ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা অবলোকাচ্ছেন যে, তাদের পণ্যদ্রব্যের দামও বাড়বে, যা সাধারণ ভোক্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম-সম্পাদক ও আমদানি ব্যবসায়ী এজাজ উদ্দিন টিপু বলছেন, বাজারে তেলের কোন সংকট নেই; কিছু অসাধু ব্যাক্তি তেলের মজুদ করে রাখার কারণে পাম্পগুলোতে সরবরাহ কম হচ্ছে। এই সুযোগে মালিকরা ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভোক্তার উপর চাপ বাড়ছে।
বেনাপোলে শাহজালাল ফিলিং স্টেশনের পরিচালক ইয়ান আলী জানান, চাহিদামতো তেল তারা পাচ্ছেন না। তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় যতটুকু তেল পান, তা সঠিকভাবে বিতরণ করছেন। এই পরিস্থিতিতে, তেলের অভাবে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং দরকার হলে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
