তেল আবিবে ইরান যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ আদালতের সীমা ছাড়ালো

তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারে শনিবার (১১ এপ্রিল) সরকারবিরোধী ও ইরান যুদ্ধবিরোধী একটি বৃহৎ সমাবেশে শত শত নয়, হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়—বিবিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে অন্তত ২ হাজারজন উপস্থিত ছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ১ হাজারজনের সীমা ছাড়িয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট জননিরাপত্তার লক্ষ্যে ওই সীমা আরোপ করেছিল—পরিবর্তিত নিরাপত্তা অবস্থা, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটকে উল্লেখ করে। তবুও সমাবেশে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক সপ্তাহের মতো তীব্রভাবে লাঠিচার্জ বা ব্যাপক গ্রেপ্তার হয়নি।

বিক্ষোভে মূলত বামপন্থী দল ও বিভিন্ন সরকারবিরোধী সংগঠন অংশ নিয়েছিল। তাদের মুখ্য দাবি—ইরান-বিগ্রস্ত লড়াই বন্ধ করা, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচারের দাবী, এবং অতি-অর্থোডক্স ছাত্রদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির পদক্ষেপের প্রতিবাদ।

সমাবেশের এক অন্যতম সংগঠক অ্যালন লি গ্রিন বলেন, হাবিমা থেকে শহরের রাস্তায় সমবেত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন—তিনি অভিযোগ করেন সরকার একটি দীর্ঘস্থায়ী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা দমন করছে এবং সুযোগ পেলে বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করার মতো আইন পাশ করছে।

আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হাদাশের প্রধান আয়মান ওদেহ বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ও নৈতিক কোনো বিকল্প উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন নাও হতে পারে, কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জহুদি ও আরব জনগণের ঐক্য অপরিহার্য।’’

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘‘শান্তি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’’ স্লোগান তুলেছেন। তেল আবিবের বাইরে জেরুজালেমের প্যারিস স্কোয়ার ও হাইফাতেও প্রতিবাদী প্রর্দশন ছিল—জেরুজালেমে পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো, পরে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবারে তেল আবিবে জমায়েতের সীমা ১ হাজার ও হাইফাতে ১৫০ জন নির্ধারণ করেছিল। গত সপ্তাহে পুলিশ অবৈধ জমায়েতের অজুহাতে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করলেও এই সপ্তাহে তারা তুলনামূলকভাবে নমনীয় ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে সীমা ছাড়ালে পুলিশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিক্ষোভ ভাঙতে পারে না—বিশেষ করে হাবিমা স্কোয়ারটির নিচে একটি বড় বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় অনেক জায়গায়—স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে—নিয়ন্ত্রন শিথিল করা হয়েছে, তবে লেবাননের সীমান্ত হয়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের কারণে উত্তর ইসরায়েলসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো কড়া বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল