রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কষ্ট

ভারতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুনিয়া থেকে প্রস্থান করেছেন। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে তাঁর অন্ত্যেষ्टि নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সংবাদটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে এবং বহু শিল্পী ও শ্রোতা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

রবিবারই উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পী রুনা লায়লা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে যাওয়ার পর আর আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেছে।’

রুনা লায়লা ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে জানান, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ তিনি বলেন, তাঁর শেষ সাক্ষাৎ ছিল নিজের সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’ রেকর্ডিংয়ের সময়। পরে তারা ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন, কিন্তু কিছুদিন ধরে তিনি ভাবতেন আবার কথা বলবেন—‘‘আজ করব, কাল করব’’—এভাবেই শেষ দেখা ও শেষ কথাগুলো আর হলো না।

রুনা আরও বলেন, ‘যদি তখনি ফোন করে দিতাম, হয়তো আজ এই আফসোসটা এত গভীর হতো না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এ কষ্ট সত্যিই ভাষায় বলা সম্ভব নয়।’

আশাকে শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেননি। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীত বিশ্বে অদ্বিতীয় প্রতিভা হিসেবে তিনি রাজত্ব করেছেন—হাজার হাজার গান এবং অগণিত কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি কয়েক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে, যা সংগীতবিশ্ব বহুদিন মনে রাখবে।