বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করেছে।
বিরোধীদলের নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ওয়াকঅউট ঘোষণা করে বলেন, ‘বিরোধী দলের যৌক্তিক আপত্তি সত্ত্বেও গণবিরোধী বিলগুলো পাস করা হয়েছে। এসব বিলের দায় আমরা নিতে চাই না, তাই আমরা সংসদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।’ তার বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একের পর এক অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
ডেপুটি স্পিকার ওয়াকআউট ঘোষণা হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিছু বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে আইন প্রণয়নের সব রিডিং—ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং—এ বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেছে; কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টিকে দায়সারা করে বলেন, সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে এখন ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা তা বোঝার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং আশা প্রকাশ করেন যে মাগরিব নামাজের পর তারা পুনরায় অধিবেশনে যোগ দেবেন।
এর আগে জেলা পরিষদ (সংশোধিত) বিল ও পৌরসভা (সংশোধিত) বিল কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। এ দিন মোট ১২টি বিল পাস করা হয়েছে। এদের মধ্যে নয়টি বিল পূর্বে জারি করা অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যादेशগুলো অবিকল রেখে পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে দুইটি বিল পাস করানো হয়েছে।
বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের প্রয়োজনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস করা হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ রহিত করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে।
বিরোধী দল বলেছে তারা এসব ‘গণবিরোধী’ বিলের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং তাই সংসদ থেকে বেরিয়ে গেছেন; অথচ সরকার প্রতিনিধি বলছেন যে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরে বিরোধীদের পুনরায় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
